প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেকারদের কষ্ট লাঘবে নিঃশব্দ প্রয়াস

ডেস্ক রিপোর্ট : হাজারো বেকার যুবকের জীবন বদল ও কষ্ট লাঘবের জন্য নিঃশব্দে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদফতর। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণের পরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া, যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করে যুব ক্লাব গঠন, ক্লাবের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম গ্রহণসহ সার্বিকভাবে যুবকদের মাধ্যমে স্বনির্ভর দেশ গড়াই এ সরকারি প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় আছে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। সেখানে পাওয়া যায় প্রশিক্ষণ ও ঋণ-সংক্রান্ত সব তথ্যাদি। প্রশিক্ষণের জন্য আবেদনও করতে হয় সেখানে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের খবর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, ৭-১৫ দিনে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন যুব ক্লাব বা স্থানীয়ভাবে পোলট্রি, ডেইরি, ফিশারি, কৃষি, ব্লক বুটিক, হাতের কাজ, নার্সারিসহ নানা কিছু প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। যাদের বয়স ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে তারা সহজেই বিনামূল্যে পেতে পারেন এ সরকারি সেবা। উভয় প্রশিক্ষণে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি। প্রশিক্ষণ শেষে নিজের খরচে যে কোনো প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ করার পর যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণধারী যুবক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণধারীরা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা পান। দশ ভাগ কম সার্ভিস চার্জে মাসিক কিস্তিতে দুই বছরের ঋণ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশিক্ষণ সনদ থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ পাওয়া যায় কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকেও। কৃষি বিষয় ছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স, সেলাই, ব্লক-বুটিক, হাউস ওয়ারিং, টিভি-ফ্রিজ-রিফাজেটর ও মোবাইল বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয় বেকার যুবকদের। যাদের যোগ্যতা ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক পাস এবং বয়স ২৪ বছর তারাই এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারেন। ইতিমধ্যে গোপালগঞ্জ, বরগুনা ও কুড়িগ্রাম জেলা এ কর্মসূচির আওতায় আছে। বর্তমান অর্থবছরে রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, নীলফামারীর ডিমলা, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও খানসামা, পঞ্জগড় সদর, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা এ কর্মসূচির আওতায় এসেছে।

দুই বছর মেয়াদি এ চাকরিকালীন প্রকল্পে প্রতি মাসে বেতন হিসেবে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। আর প্রশিক্ষণ চলাকালে তিন মাস প্রতিদিন একশ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়। তাই উল্লিখিত জেলাগুলোর যুবকরা সহজেই পেতে পারেন ন্যাশনাল সার্ভিসের সুবিধাগুলো।
এ ছাড়া সারা দেশে সফল যুবকদের পুরস্কৃত করা, যুব ক্লাবকে অনুদান প্রদান, যৌতুকবিরোধী অভিযান, মাদকের কুফল সম্পর্কে যুবকদের অবহিতকরণ এবং ক্লাবভিত্তিক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অধিদফতরের অর্জন অনেক। পাঁচ বছর ধরে রাজস্ব ও প্রকল্প খাত মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ যুবকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫২ লাখ যুবকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রায় ২০ লাখ আত্মকর্মী।

সারা দেশে ৬৪ জেলা ও ৪৮৬ উপজেলা এবং ১০টি মহানগর থানায় যুব উন্নয়ন অধিদফতরের কাজ চলে। ৬৪ জেলার ৫৮টিতে আছে উপপরিচালকের কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রাজস্ব ও প্রকল্প খাত মিলিয়ে জনবল প্রায় ৭ হাজার। এর প্রায় ৮০ শতাংশই প্রকল্প খাতের। মোট ৭৫টি বিষয়ে যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম বলেন, প্রতি বছরই লাখ লাখ যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থান বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা ঋণসহায়তা নিয়ে সরাসরিভাবে গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচনে কাজ করে যাচ্ছে। শুরু থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ২০ লাখ ৫৬ হাজার ৫০ জন যুব সফল আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। চলতি বছরও ২ লাখ ৮২ হাজার যুবকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত