প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ১১ মে

প্রিয়াংকা আচার্য্য: প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী সম্মাননা। শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ১০ জন গুণী ব্যক্তিকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। আগামী ১১ মে বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইস্ফেদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

এবছর শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী সম্মাননা ক্রেস্ট ও পদক পাচ্ছেন- অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক (গবেষণা), ইমদাদুল হক মিলন (কথাসাহিত্য), ফরিদুর রেজা সাগর (শিশুসাহিত্য), সৈয়দ আল ফারুক (কবি), আমীরুল ইসলাম (ছড়া), ভারতের ড. মহুয়া মুখোপ্যাধ্যায় (নৃত্যকলা), আকবর হোসেন পাঠান ফারুক (চলচ্চিত্র), বুলবুল মহলানবীশ, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী (সঙ্গীত), আহমেদ রিয়াজ (কিশোর বিভাগ) এবং আলমগীর বাবুল (ছড়াকার)।

মোহাম্মদ নাসির আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির প্রধান ইফতেখার রসুল জর্জ জানান, গত ৩ বছর যাবত শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মাদ নাসির আলী সম্মাননা ও পদক প্রদানের প্রচলন শুরু হয়। শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগে এ পদক প্রদান করা হয় কমিটির বাছাইকৃত ১০ জন বিশিষ্টজনদের। শিশু সাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী নামে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মাদ নাসির আলী ফাউন্ডেশনের হয়ে এটি প্রদান করে নসাস।

মোহাম্মদ নাসির আলীর জন্ম ১৯১০ সালের ১০ জানুয়ারি। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক গল্প, প্রবন্ধ ও জীবনকথা রচনায় তার অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে। এছাড়া ১৯৪৯ সালে বন্ধু আইনুল হক খানের সঙ্গে যৌথভাবে নওরোজ কিতাবিস্তান নামে প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তোলেন। যা প্রকাশনার জগত আজও আলোকিত করে যাচ্ছে।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- আমাদের কায়েদে আজম (১৯৪৮), মণিকণিকা (১৯৪৯), শাহী দিনের কাহিনী (১৯৪৯), ছোটদের ওমর ফারুক (১৯৫১), আকাশ যারা করলো জয় (১৯৫৭), আলী বাবা (১৯৫৮), টলস্টয়ের সেরা গল্প (১৯৬৩, ২য় সংস্করণ), ইতালীর জনক গ্যারিবল্ডি (১৯৬৩), বীরবলের খোশ গল্প (১৯৬৪), সাত পাঁচ গল্প (১৯৬৫), বোকা বকাই (১৯৬৬), যোগাযোগ (১৯৬৮), লেবু মামার সপ্তকা- (১৯৬৮), আলবার্ট আইনস্টাইন (১৯৭৬), মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা (১৯৭৬) ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নাসির আলী বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হন। তিনি ১৯৬৭ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কো এবং একই বছর ইউনাইটেড ব্যাংক অব পাকিস্তান পুরস্কার লাভ করেন। বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও ১৯৮৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাকে স্বর্ণপদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করে। ১৯৭৫সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি পরোলোক গমন করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত