প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্ষায় এবারও রাজধানীতে নাগরিক ভোগান্তির আশঙ্কা

শাকিল আহমেদ: শুরু হয়েছে রিমঝিম বর্ষার দিন। বর্ষা কখনো কখনো আনন্দদায়ক হলেও তা ঢাকাবাসীর জন্য প্রতি বছরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজধানীতে মেট্ররেল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ লাইনের উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেবাদান প্রতিষ্ঠানের খোড়াখুড়ির কারণে এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না বলে মনে করেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

পহেলা বৈশাখ বিকালেই রাজধানীর আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ, সঙ্গে মেঘের গর্জন, একপর্যায়ে মুশল বৃষ্টি। আর এই ২ ঘন্টার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অলিগলিসহ নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথ ড্রেনেজ লাইন নিয়মিত পরিষ্কারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানীর রাস্তাগুলো। ফলে একটু ভারি বর্ষণে প্রতি বছর ছন্দপতন হয় রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শত শত কোটি টাকা খরচ করে এসব আবর্জনা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলে না ঢাকাবাসীর। বর্তমান সময়েও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। এরপরও যেন স্বস্তি নেই।

প্রতি বছরই জলাবদ্ধতার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা বা অন্য সংস্থাগুলো একে-অপরের ওপর দোষ চাপায়। জলাবদ্ধতা থেকে উত্তোরণের ব্যর্থতা হিসেবে সংশ্লিষ্ঠ সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে নগর বিশেষজ্ঞ স্থপতি ইকবাল হাবীব ইকবাল, গত বছরের তুলনায় এবছর বর্ষায় নাগরীক ভোগান্তি বেশি হবে। কারণ এবছর জলবায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীতে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গতবছর জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রয়াত আনিসুল হকের উপস্থিতিতে ওয়াসার সাথে একটি আলোচনা সভা করেছিলেন। সেখানে নাগরিক সমস্যার ৫ টি কারণ উল্লেখ্য করে জনগণকে সাথে নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছিলো। কিন্তু সে প্লানের কোন বাস্তবায়নই হয়নি। আর এর দায় কোন সংস্থাই এড়াতে পারেনা।

এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা আলি রিপন বলেন, এখন সামান্য বৃষ্টি হচ্ছে তাতেই ডুবে যাচ্ছে মহানগরী। জলমগ্ন হচ্ছে রাস্তাঘাট, কাঁচাবাজার, দোকানপাট, স্কুল, বাসস্ট্যান্ড আর পাড়ামহল্লা। বৃষ্টি মৌসুমের শুরেতে সড়কের যে অবস্থা হয়েছে পুরো বর্ষায় কি অবস্থা হবে তা বোঝার বাকি নেই।

আসছে বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, রাজধানীতে মূলত ১২ শতাংশ জলাভূমি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র দুই শতাংশ। শহরের অধিকাংশ মাটি কার্পেটিং করা এবং নিম্নাঞ্চল ভূমিদস্যুদের দখলে। ঢাকায় ৬৫টি খাল ও চারটি নদী ছিল, এখন সেগুলো নেই। তিনি বলেন, এবার বর্ষা মৌসুমে যদি টিপটিপ বৃষ্টি হয় তাহলে টানা ১০ দিনেও জলাবদ্ধতা হবে না। তবে কয়েক ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। কিন্তু তা তিন ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, বড় ড্রেনগুলোর দায়িত্ব ওয়াসার, আমরা ছোট ড্রেনগুলোর কাজ করি। ইতোমধ্যে সব ড্রেনগুলোর কাজ শেষ হয়েছে বিশেষ করে শান্তি নগর এলাকার কাজ আরও আগে শেষ হয়েছে। এবার জলযট কম হবে বলে অঅশা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত