প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ধস, অনিয়মের অভিযোগ

সৌরভ কুমার ঘোষ, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ৩’শ কোটি টাকার ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা প্রকল্পের ধস নেমেছে। কাজে অনিয়ম আর দুর্নীতি ধ্বসের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

গত বন্যা মৌসুমে একাধিক স্থানে ধস নামলেও কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে মেরামত করায় পুনরায় ধস নেমেছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষকে রক্ষার সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। এখনই ধসকবলিত স্থান সমূহ তড়িৎগতিতে মেরামত না করলে ভরা বন্যায় ভাঙ্গন বিপর্যয় দেখা দিবে চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায়। ফলে ভেঙ্গে যাবে বিস্তীর্ণ জনপদ। ভূমিহীন হবে লাখো মানুষ।

জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পে আবারও ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। রানীগঞ্জ কাঁচকোল বাঁধ এলাকাসহ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে ধসের ঘটনায় হুমকির মুখে পড়েছে চিলমারী শহর। চলতি মৌসুমে রক্ষা প্রকল্পে ধস দেখা দেওয়ায় বর্ষা মৌসুম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন নদী তিরবর্তী মানুষ। নিয়ম না মেনে ব্লক তৈরি, অপরিকল্পিত পিচিং ও ব্লক ফেলানোর কারণেই বারবার ধস দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঠেকাতে ফেজ-১ ও ফেজ-২ মিলে প্রায় ৩’শ কোটি টাকা ব্যয়ে চিলমারী কাঁচকোল, রমনা ও উলিপুর উপজেলার অনন্তপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্প কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কিন্তু শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির আশ্রয় নেয় সংশ্লিষ্টরা। এতে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় ধস। এ ধসের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ দেখায় নানা অজুহাত।

উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার সকালে ধসে যায় প্রায় ৫০ ফিট এলাকা। একের পর এক জায়গায় ধসের সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ব্লক তৈরি, ডাম্পিং, পিচিং কোনোটিই ঠিকমতো হয়নি। ফলে এ ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পাউবোকে দায়ী করেন।

অনন্তপুর এলাকার আইয়ুব আলী আক্ষেপ করে জানান- তীর রক্ষা প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সিসি ব্লক তৈরি, জিও টেক্সটাইল ফিল্টার ও ব্লক বসানোয় সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি আগামীতে আর যেন সমস্যা না হয়। যে সমস্ত জায়গায় ধসের সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত মেরামত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ