প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঠাকুরগাঁওয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছটি

সাইফুল ইসলাম প্রবাল, ঠাকুরগাঁও: দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেন কোন বট বা পাইকর গাছ। আবার অনেকের কাছে মনে হতে পারে এটি যেনো কোন সুসজ্জিত আম বাগান। মনে আসা নানা ধারনা বা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালে। সেখানে দেখা যাবে নিজ স্বকীয়তায় তার বিশাল ডালপালা ছড়িয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি আমগাছ। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছ।

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে অবস্থিত এ আমগাছটি। ধারণা করা হয় সূর্যাপুরি জাতের এ আমগাছটি প্রায় ২শ ২০ বছরের পুরনো । বিশাল এ আমগাছটি তার বিশাল আকৃতির ডালপালা গুলি ছড়িয়ে দখল করে নিয়েছে প্রায় ৩ বিঘা জমি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ এবং প্রকৃতির অপার এ সৃষ্টিকে দেখতে এখানে ভিড় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং দেশের বাহির থেকে আসা দর্শনার্থী ও পর্যটকরা।

পৈতৃক সূত্রে বিশাল এ আমগাছটির মালিক সাইদুর রহমান ও নূর ইসলাম। নূর ইসলাম জানান, আমগাছটি তার পূর্বপুরুষেরা ঠিক কবে লাগিয়েছিলেন তার সঠিক কোন তথ্য কেউ বলতে পারে নি। তবে এ গাছ সম্পর্কে তিনি জেনেছেন তার দাদার কাছ থেকে। তার দাদা আবার জেনেছেন তার দাদার কাছ থেকে। এভাবেই আনুমানিক ২২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কালের আবর্তে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছটি।

তিনি আরো জানান, সূর্যাপুরী জাতের এই আমগাছটির আম খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। মৌসুমে ১০০ মণের বেশি আম পাওয়া যায় এটি থেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ আমটির প্রতি চাহিদা দেখান এবং ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছটির আম কেনার জন্য বলে রেখেছেন অনেকে।

প্রতি মৌসুমেই এ আমগাছটি ছেয়ে থাকে আমের মুকুলে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত বছরের তুলনায় এবার গাছটিতে আম ধরেছে প্রচুর এবং ইতোমধ্যেই ৩ বছরের জন্য সব আম কিনে নিয়েছেন সোলেমান আলী নামের স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী। তার কাছে জানাযায় , মৌসুমের শুরুতে গাছটিতে প্রচুর মুকুল আসলেও বৈশাখী ঝড়ে অনেকাংশে তা পড়ে যায়। কিন্তু তারপরেও ফলন হয়েছে ভালো। আশা করছি এ মৌসুমে গাছটি থেকে প্রায় ১শ মনের মতো আম পাবো ।

গাছটিকে কেন্দ্র করে এর পাশে খাবারের দোকান দিয়ে বসেছেন খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, প্রতিদিনই আমগাছটি দেখতে প্রায় ২শ থেকে ৩শ দর্শনার্থী আসেন বিশাল এ আমগাছটি দেখতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শুধু নয় বরং বিদেশের পর্যটকরাও আসেন এখানে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান জানান, আমাদের এ জেলায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আমগাছটি থাকায় আমরা বেশ গর্বিত এবং এটি আমাদের এ জেলাকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় করে তোলে। পর্যটকরা বিভিন্ন সময়ে গাছটির খুব কাছে গিয়ে হাত দিয়ে ধরায় গাছটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক এ গাছটিকে সুরক্ষার ও এর আরো বিস্তৃতির কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত