প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পকে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকতে বললেন ম্যাক্রোঁ

রাশিদ রিয়াজ : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ যখন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলে নিজের পরমাণু কর্মসূচি আরো অনেক গতিশীল ও অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে শুরু করবে তার দেশ, ঠিক তখনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটির সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার আগে ম্যাক্রোঁ মার্কিন নিউজ চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার কোনো বিকল্প তার হাতে নেই। কাজেই এ সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাম্প যখন ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাতিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন তখন তার প্রতি এ আহ্বান জানালেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, যেহেতু ইরানের পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ’র চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই তাই আমেরিকার উচিত এসমঝোতায় অটল থেকে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা।

ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, আমার কাছে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নেই। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে চাইলে ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ মার্কিন সংবাদ সংস্থা আল-মনিটরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সরকার কখনোই পরমাণু সমঝোতা মেনে চলেনি আর ইরান সব সময় নিজের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ যাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে না পারে সেজন্য মার্কিন সরকার গত ১৫ মাস ধরে চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই ওয়াশিংটন এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলে তা ইরানের অর্থনীতির ওপর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার জন্য জার্মানি ও ফ্রান্স ইরানের ওপর যে চাপপ্রয়োগ করছে তার সমালোচনা করে জারিফ বলেন, ওই দুই দেশ সম্পূর্ণ ভুল নীতি গ্রহণ করেছে। তারা যদি নিজেদের ও ইউরোপের স্বার্থ রক্ষা করতে চায় তাহলে তাদের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করা যে, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার পাশাপাশি সদিচ্ছা নিয়ে সঠিকভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এও বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা শুধু ইরানের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং এটির ধারায় এমনভাবে পরিবর্তন আনার দাবি জানাচ্ছেন যার ফলে তাতে ওয়াশিংটনেরও স্বার্থ রক্ষিত হয়।

ট্রাম্প গত ১২ জানুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ১২০ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন। কিন্তু তিনি এই বলে সতর্ক করে দেন, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেস ও ইউরোপ তার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে আগামী ১২ মে তিনি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন এবং ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আর স্থগিত রাখবেন না।

ট্রাম্পের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা। তেহরান তার ওই দু’টি দাবিই অনেক আগে থেকে নাকচ করে এসেছে।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে জার্মানি, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে ইরান। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এটির বাস্তবায়ন শুরু হলেও মার্কিন সরকার কখনোই এ সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলেনি। পারস/টাইমস অব ইসরায়েল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত