প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে আসছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তরিকুল ইসলাম : রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফরে আসছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। সফর সূচি এখনো চূড়ন্ত হয়নি বলে জানিয়ে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের ঢাকা সফর নিয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিনক্ষণ এখনো ঠিক না হলেও প্রস্তাবনায় আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের বিষয়টি রয়েছে। এ সময়টিতেই তার সফরের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার বিষয়ক বিষেশ দূত বব রে ঢাকায় আসবেন। যদিওবা সাম্প্রতি সময়ে বব রে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে কানাডার সরকারের কাছে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

সূত্র বলছে, রাখাই সংকটের পর রোহিঙ্গাদের ঢল যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে তখনই ঢাকার পাশে দাড়ায় কানাডার সরকার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটি আন্তর্জাতিক ফোরামে বেশ সরব রয়েছে। এ সফরে ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ও বব রে কক্সসবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। জাতিসংঘের উদ্ভাস্তু বিষয়ক সহযোগি সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি ব্লক ঘুরে দেখবেন। রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে শুনবেন তাদের দুর্দশার কথা। এ ছাড়া সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রী। আশা করা হচ্ছে তার সফরের মধ্যে দিয়ে এ ইস্যুতে কানাডার অবস্থান আরো শক্তিশালি হবে।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর শরণার্থীদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার সুপারিশ করেছেন রোহিঙ্গা সংকটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নিয়োগকৃত বিশেষ দূত বব রে। একইসঙ্গে তিনি চলমান মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছেন। কানাডাভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সিটিভি জানিয়েছে, অল্প কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশ হতে যাওয়া (৩ মার্চ মঙ্গলবার) এক প্রতিবেদনে তিনি এসব সুপারিশ করেছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বছরের অক্টোবরে টরেন্টোর সাবেক এমপি বব রে-কে মিয়ানমারের বিশেষ দূত নিয়োগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এরপর কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রাখাইন পরিদর্শন শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি। প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘শক্তিশালী ইঙ্গিত’ দেওয়া হয়।

গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বব রে লিখেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কী ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সরাসরি গুলি ও সামরিক সহিংসতা ছাড়াও আমি যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি। শরণার্থী শিবিরে আসার পথে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর কথাও শুনেছি। প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দেখার জন্য তাকে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখানে যান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত