প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অ্যাপ্রোচ রোডের ফয়সালা না করেই ধামরাইয়ে কাগুজিপাড়া ব্রিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

২২ এপ্রিল (রবিবার) ধামরাইয়ে হাজীপুর কাগুজিপাড়া ব্রিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হয়ে গেলো। উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গুচ্ছগ্রাম মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা-২০ আসনের সাংসদ এম এ মালেক এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন। ধামরাই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নওশাদ আলী খান, সাধারণ সম্পাদক, ধামরাই সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংঠনের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের সকলের কথায় একটি বক্তব্যই স্পষ্ট ভাবে সামনে এসেছে, এই এলাকার উন্নয়নে বিগত সাংসদেরা তেমন কিছুই করেন নাই। আলহাজ্ব এম এ মালেক তার দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই ব্রিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দ্বারা এই ইউনিয়নের মানুষের প্রায় ৪৭ বছরের চাহিদা পূরণে এগিয়ে এলেন। তার এই ঋণ শোধ করতে হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এম এ মালেককে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দ্বারাই কেবল শোধ করা সম্ভব। মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনার থেকে ‘গ্রিণ সিগনাল’ পাওয়া গেছে যে, এই আসন থেকে এম এ মালেকই মনোনয়ন পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এম এ মালেক তার বক্তব্যে বলেন, এ পর্যন্ত ৯জন সাংসদ এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই মিলে ধামরাইয়ের উন্নয়নের জন্য যা করেছেন, আমি একাই তাদের থেকে বেশী উন্নয়ন করেছি। এজন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন আশা রাখি।

আসরের নামাজের পরে হাজীপুর গুচ্ছগ্রাম মাঠ সংলগ্ন নদী তীরে স্থাপিত ভিত্তি প্রস্তরের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় মোনাজাত স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব এক সংক্ষিপ্ত মোনাজাত করেন।

বংশী নদীর পৌরসভা অংশের তীর সংলগ্ন এলাকার যে স্থান দিয়ে এই ব্রিজের ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ হবে, সেখানের বাসিন্দারা কিন্তু মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁরা জানান, ব্রিজের জন্য সংযোগকারী যে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে তাদের বাড়ি-ঘর সরাতে হবে। সরেজমিন দেখা গেছে, খুবই সংকীর্ণ এখনকার রাস্তা। আর নদীর তীর এবং সেই অংশের রাস্তার দুই পাশেই বাড়ি। এখন এই বাড়িঘর না সরিয়ে কিভাবে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি নির্মাণ সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় একজন বাড়ির  মালিক তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘আমাদের সাথে এ ব্যাপারে কোনো ধরণের আলোচনাই করে নাই কেউ। আর আমরা পৌরসভায় থাকি। ইউনিয়নবাসীদের  সুবিধার জন্য আমরা কেন আমাদের বাপ-দাদার ভিটামাটি অন্যত্র সরিয়ে নেবো? আমাদের ওপাশে যাবার তো তেমন প্রয়োজন পড়ে না। এমপি সাহেব কেবল নিজের ভোটের জন্যই এভাবে আমাদেরকে বঞ্চিত করার একটা পাঁয়তারা করছেন।

পৌরসভার একজন প্রভাবশালী কমিশনার জনাব সাহেব আলী ব্রিজের ঠিকাদার এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, কার জায়গায় ব্রিজের ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ হবে? এটার ফয়সালা না করেই তড়িঘড়ি করে এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করাটা কতটুকু যৌক্তিক? হাইকোর্টে এ এব্যাপারে রিট আবেদন করা হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একটা অবহেলিত এলাকার উন্নতির পূর্বশর্ত হলেও, এর দ্বারা অন্য কেউও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটাও মাথায় রাখা উচিত। আর অ্যাপ্রোচ রোডের ব্যাপারে ফয়সালা না করেই হাজীপুর কাগুজিপাড়া ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করাটাও কারও জন্য ফলদায়ক হবে না বলে অভিমত স্থানীয় অধিবাসীদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত