প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার কি নৈরাজ্য থামবে?

ডেস্ক রিপোর্ট : গণপরিবহনে যাত্রী ওঠানামার প্রতিযোগিতায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এক বাসের সঙ্গে আরেক বাসের পাল্লাপাল্লিতে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, রাজধানীর ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত। গণপরিবহনের এ নৈরাজ্য ঠেকাতে বড় বাস কোম্পানি (নেট) গঠনের কথা বলে আসছিলেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। এবার সে পথেই হাঁটতে চাইছে সরকার।

গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন জীবন হারিয়ে, পঙ্গু হয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বহু বাসমালিক প্রথার কুফল। এ অবস্থায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাস কোম্পানি গঠনের ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে যাত্রী জিম্মি করে যখন তখন ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি ঘোষণা সহজ হবে না পরিবহন নেতাদের।

এরই ধারাবাহিকতায় বিআরটিএর পক্ষ থেকে সিটিং সার্ভিস সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ পাঠানো হয়েছে রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটিতে (আরটিসি)। সেখানে সিটিং ননসিটিং নামে পৃথক সার্ভিস দ্রুত চালু করতে বলা হয়। এ ছাড়া রাজধানীতে বাস কোম্পানি গঠনের ব্যাপারে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কার্যক্রমেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে নতুন করে। সব মিলিয়ে যাত্রী পরিবহনে এক বাসের সঙ্গে আরেক বাসের রেষারেষি বন্ধে কোম্পানি গঠনকেই অন্যতম পথ মনে করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ নিয়ে জনমত যাচাইয়ে শিগগির সেমিনার করতে চাইছে মন্ত্রণালয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভারত থেকে দেশে ফেরার পর-পর এ আয়োজন করা হতে পারে। এর আগে জনসচেতনতা বাড়াতে বিআরটিএর মাধ্যমে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, সিটিং সার্ভিস নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ পেয়েছি আমরা। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোম্পানি গঠন এবং সিটিং-ননসিটিং সার্ভিসের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগরীর বাস ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন সংক্রান্ত পাইলট প্রকল্পের ধারণাপত্র বিষয়ে সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। ঢাকায় বর্তমানে বাস রুটের সংখ্যা ৩৫৯। চলাচলের অনুমতি আছে ৫ হাজার ২৪৭টি বাসের। মিনিবাসের অনুমতি আছে ২ হাজার ৬৯২টির। অর্থাৎ বাস-মিনিবাস মিলে ৭ হাজার ৯৩৯টি। এ ছাড়া হিউম্যান হলারের রুট আছে ১৫৯টি। চলাচলের অনুমতি পেয়েছে ২ হাজার ৪৭৮টির।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে সরকারের নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক করিডরে একটিমাত্র অপারেটর গ্রুপ বাস পরিচালনা করবে। প্রতিটি করিডরের বাসের রঙ হবে ভিন্ন। এক করিডরের বাস অন্য করিডরে চলতে পারবে না। ফলে যাত্রী পেতে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে না। রাস্তায় যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হবে। সেক্ষেত্রে ১০টি করিডরের চিন্তা চলছে।

এ নিয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিটিসিএ। ঢাকা মহানগরীর বাস পরিচালনার ব্যবস্থাপনায় আলাদাভাবে বাস নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের সুপারিশ দেবে ওই কমিটি। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালককে আহ্বায়ক করে ওই কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, বিআরটিসি, রাজউক, ডিএমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। ওই কমিটির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে গতকাল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়।

আরটিসির রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়িকে সিটিং সার্ভিস বলা যাবে না। প্রতিটি কোম্পানির কতগুলো গাড়ি কোন ক্যাটাগরিতে চলবে তা-ও নির্ধারণ করবে আরটিসি। দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে সিটিং সার্ভিস গাড়ির পৃথক রঙ থাকবে। সেখানে দাঁড়ানো যাত্রী বহন করা যাবে না।
পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য ৫টি সুপারিশের ব্যাপারে বিআরটিএ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে সিটিং সার্ভিসের জন্য স্লাবভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ, মিরপুর এবং নিমতলির আনন্দবাজারে সিটি স্টপওভার টার্মিনাল নির্মাণ, স্টপেজে কাউন্টারের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন নিশ্চিত করা নিয়ে গত বছরের ১৬ এপ্রিল অভিযান চালায় বিআরটিএ। পরিবহন মালিকদের ডাকে এই অভিযান পরিচালনার পর গাড়ি রাস্তায় কম নামিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরিবহন নেতারা।

মানুষের দুর্ভোগের কারণে অভিযান বন্ধ করা হয়। যাত্রী জিম্মি করে সিটিং সার্ভিসের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান পরিবহনকর্মীরা। এর জেরে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় গত বছরের ২ মে। তখন ২৬টি সুপারিশ জমা দেন ওই কমিটির সদস্যরা। যদিও বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত বৈঠকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সুপারিশের জোর বিরোধিতা করেন।
কমিটির সুপারিশের ৩ নম্বর প্যারায় বলা হয়েছে, ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি ও একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধে প্রাইভেট অপারেটরদের অনুকূলে নতুন করে রুট পারমিট বন্ধ রেখে বিআরটিসির মাধ্যমে অধিক সংখ্যক ডাবল ডেকার চালু করা। আর ২৪ নম্বর সুপারিশে বলা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সকল রুট থেকে ছোট বাস উঠিয়ে বড় বাস/দ্বিতল বাস প্রতিস্থাপন করা।

তবে বেসরকারি মালিকানায় বৃহৎ আকারের কোম্পানি গঠনে আপত্তি কম পরিবহন নেতাদের।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোম্পানি গঠন করে দিলে চালক-মালিকদের নৈরাজ্য বন্ধ হতে পারে। তবে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, তারপরও কি নৈরাজ্য থামবে? সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত