প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুজনাই নীতিবান ও আপসহীন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে রয়েছে বিস্তর মিল। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে যেটুকু অমিল তা হচ্ছে বয়সের ব্যবধান আর রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য। ভোটের ময়দানে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সুসম্পর্ক ও মিলের সমাহার ভোটারদের মধ্যে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন গত ১৫ এপ্রিল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সামনের সারির আলাদা সোফায় বসেন। এরপর রিটার্নিং অফিসার দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে তাঁরা এগিয়ে যান একে অন্যের দিকে। হাত মিলিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান দুই প্রার্থী। উপস্থিত ব্যক্তিরা করতালিসহ এ দৃশ্য উপভোগ করে। এ ছাড়া গত শুক্রবার জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদে একই সারিতে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তাঁরা কুশল বিনিময় করেন। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নজির গড়ে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন। শনিবার সাংবাদিকদের কাছে জাহাঙ্গীর জানান, একই গাড়ি ও একই মঞ্চ থেকে প্রচারণা চালানোর প্রস্তাব দেন। গতকাল হাসান সরকার বলেন, এ প্রস্তাবে তাঁর আপত্তি নেই।

স্থানীয়রা জানায়, হাসান সরকার ও জাহাঙ্গীর আলম দুজনই ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে হাসান সরকার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। আর জাহাঙ্গীর আলম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা দুজনই আগে জনপ্রিতিনিধি ছিলেন। হাসান সরকার টঙ্গী ইউনিয়ন ও টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি দুবার গাজীপুর সদর আসনের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর বয়সে নবীন জাহাঙ্গীর ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তাঁদের দুজনের এবারই প্রথম নির্বাচন। দুজনই দলে এবং দলের বাইরে তৃণমূলে অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাঁদের রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী। দলীয় ভোটের বাইরেও তাঁদের রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। কালের কণ্ঠ

ঘনিষ্ঠজনরা জানায়, দুজনই শিক্ষাবান্ধব। হাসান সরকার নিয়মিত বই পড়েন। এলাকায় স্কুল-কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে তিনি দৃষ্টান্ত গড়েছেন। আর জাহাঙ্গীর আলম নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন জাহাঙ্গীর শিক্ষা ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে মহানগরীর বাসিন্দা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি কয়েক কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করে চলেছেন। আর্থিক অবস্থানেও দুজন প্রায় কাছাকাছি। হাসান সরকার পারিবারিকভাবেই বিত্তশালী। আর জাহাঙ্গীর বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন ব্যবসা করে। তাঁদের দুজনই বহু মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন করেছেন এবং দান অব্যাহত রেখেছেন। দুজন প্রার্থীই নীতিবান ও আপসহীন হিসেবে পরিচিত।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে আগামীকাল। এ অবস্থায় গতকাল সারা দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ঘরোয়া নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ছয়দানা বাসভবনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। অন্যদিকে হাসান সরকার টঙ্গীর বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। গতকাল সকালে হাসান উদ্দিন সরকারের বাসায় গিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এস এম সানাউল্লাহ। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।

ওদিকে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা এলেও মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জাসদ (ইনু) গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত