প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফের মাঠে নামার প্রস্তুতি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার সুচিকিৎসার দাবিতে ফের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে রোববার নতুন করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, দোয়া মাহফিলসহ আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। অনেকটা ভিন্নরূপে ঘোষিত এসব কর্মসূচি আগের চেয়ে আরও জোরদার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ দাবিতে রোববার দুপুরে রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

জিয়া এতিমখানা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি আছেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও সম্প্রতি তাতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তবে এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শনিবার রাতে বৈঠকে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। সেখানে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নতুন প্যাকেজ কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া তার অসুস্থতার খোঁজখবর নিয়ে সুচিকিৎসার বিষয়টিও কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। এ বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার আট দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া একই দিনে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপির কর্মসূচি জোরদার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার বিষয়ে বিএনপির কর্মসূচি আরও জোরদার হচ্ছে। এজন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার ঢাকায় মিছিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দেন। এভাবে কর্মসূচি চলবেই। বিএনপি বসে থাকবে না।

আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা : কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও দোয়া মাহফিলসহ আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর ও ২৩ এপ্রিল মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল, ২৫ এপ্রিল ঢাকাসহ সব জেলা ও মহানগরে মানববন্ধন, ২৬ এপ্রিল ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ, ২৭ এপ্রিল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও আশু আরোগ্য কামনায় বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং ২৮ এপ্রিল যুবদল ও ২৯ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ। এছাড়া ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক দলের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মসূচি ঘোষণার পর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজানো মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ, মনির হোসেন, শওকত শাহিন ও সেলিমুজ্জামান সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সর্বশেষ ৩ এপ্রিল ঢাকায় থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এর আগে কয়েক দফায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি পেশ, অবস্থান এবং খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি। তবে কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও অনুমতি না পাওয়ায় রাজধানীতে এ কর্মসূচি সফল করতে পারেনি দলটি। সর্বশেষ ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি ২৪ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে ৩৭ টিম গঠন করে সারা দেশের ৭৮টি সাংগঠিক জেলা সফরের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাধা-বিপত্তির কারণে শতভাগ সফল হয়নি।

এদিকে খালেদার মুক্তির ইস্যুতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে নানা বাধা-বিপত্তি, পুলিশের হামলা ও গ্রেফতার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দলটির বহু নেতাকর্মী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে না গিয়ে যথাসম্ভব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেয় দলটি। এরই অংশ হিসেবে কর্মসূচির গতিও অনেকটা কমে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেন। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে অনেকটা হতাশা দেখা দেয়। তবে নতুন করে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ায় দলটিতে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীতে ফখরুলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর বাড্ডায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দুপুর ১২টায় হোসেন মার্কেটের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মধ্য বাড্ডা গিয়ে শেষ হয়। খালেদার মুক্তি ইস্যুতে এতদিন থানায় থানায় বিক্ষোভ হলেও নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তি দিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি করছি। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিদ আঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়োরুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়াকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কারাগারে ‘গুরুতর অসুস্থ’ খালেদা জিয়া ‘হাঁটতে পারছেন না’ জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন তারা। চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো উপযুক্ত স্থানে করার কথাও বলেছেন তারা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা বলেছি, ইউনাইটেড হাসপাতালে এর আগেও উনার পরীক্ষা হয়েছে এবং সেখানকার যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং ডাক্তার তাদের ওপর আস্থা আছে। কাজেই চাইলেই তারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ) সেখানে করাতে পারেন। এতে অন্য কারও অনুমতির দরকার হয় না। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট। কয়েক দিন আগে পিজি হাসপাতালেও তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উনি আইজি প্রিজনকে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। উনার সামনেই কথা হয়েছে। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছেন, যেখানে উনার (খালেদা জিয়া) ভালো চিকিৎসা বা পরীক্ষা করা সম্ভব সেখানে করার ব্যাপারে উনি তার সম্মতির কথা জানিয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষা করব আইজি প্রিজন সাহেব কি ব্যবস্থা নেন। আমরা আশা করব, ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করা হবে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া নিচে নামতে না পারার কারণে তার পরিবারের মহিলা সদস্যদের দোতলায় নিয়ে সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান নজরুল ইসলাম খান।

এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব অথবা নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ২৫ এপ্রিল মানববন্ধন কর্মসূচি এবং ১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ যাতে বাধা না দেয়, সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতাও চায় বিএনপির এ প্রতিনিধি দল। বেলা সাড়ে ১১টায় নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। বেরিয়ে আসেন ১২টা ১৫ মিনিটে। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত