প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কালভার্ট রোডের দুঃখ একটি ডাস্টবিন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড। এই সড়কটি আগে ফকিরাপুল, পশ্চিমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ডানে কাকরাইল মোড় ও বামে পল্টন মোড়ের বাসস্ট্যান্ডের সংযোগ ঘটিয়েছে। প্রতিদিনই এই সড়কে রিকশা ও ছোট ছোট যান চলাচল করে। কিন্তু কালভার্ট রোডের প্রবেশমুখে বসানো সিটি করপোরেশনের বড় একটি ডাস্টবিন এলাকার দুঃখে পরিণত হয়েছে।

বছরের পর বছর ডাস্টবিনটি পড়ে থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজার হাজার পথচারীর। এ ছাড়া খোলা ডাস্টবিন থেকে ছড়ায় দুর্গন্ধ। অনেক সময় ময়লা ফেলা ও ময়লা অপসারণের ব্যস্ততা থাকায় এই সড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। এই ডাস্টবিনের কাছে অনেকটা অসহায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ডাস্টবিনের পাশেই এক ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এটা তো সরে না। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলছে। ডাস্টবিন থেকে নাকে দুর্গন্ধ আসে। কে শোনে কার কথা? কিছু বলতে গেলেই ঝগড়া লেগে যাবে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাস্টবিনের কারণে রাস্তার বেশির ভাগ স্থান সংকুচিত হয়ে এসেছে। যতটুকু বাকি থাকে তা দিয়ে কোনোমতে একটি প্রাইভেট কার, কয়েকটি রিকশা চলতে পারে। যেখানে-সেখানে ময়লা ছড়িয়ে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। এ ডাস্টবিনের ময়লা হিসেবে আছে বিভিন্ন পচা-বাসি খাবার, ফলের উচ্ছিষ্ট, প্রতিদিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন বর্জ্য।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন ময়লা-আবর্জনা জমে। এর মধ্যে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ পাঁঁচ হাজার টন পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতে পারে। বাকি ময়লাগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে ধীরে ধীরে অপসারণ করা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুসারে ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ করার কথা থাকলেও তা অনেক সময় মানা হয় না। দেখা যায় সব সময়ই চলছে ময়লা সরানোর কাজ। ডাস্টবিনের পাশাপাশি ময়লা অপসারণে ব্যবহৃত ভ্যানের কারণেও দখল হয়ে যায় রাস্তার অনেকটা অংশ। ময়লার কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলাফেরা করতে হয়।

ঢাকার পল্টন টাওয়ারের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনই এই দুর্গন্ধময় রাস্তা দিয়ে আমাকে চলাফেরা করতে হয়। ডাস্টবিনটা নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসানো হলে এ ভোগান্তিটা থাকত না। ভ্যানে করে ময়লা ফেলানোর সময়ও ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। সেদিকে কারো খেয়াল নেই।’ তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘ব্যস্ততম সময়ে ময়লা অপসারণের কাজ না করে সিটি করপোরেশন কোনো ফাঁকা সময় বের করলে সুবিধা হতো। কিন্তু তা না করেই ব্যস্ত সময়েই ময়লা সরানোর কাজ করা হয়। রিকশা কিংবা প্রাইভেট কার নিয়ে গেলে অনেক সময় এই ময়লাবোঝাই ভ্যানের সামনে পড়তে হয়।’ এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী আরেক পথচারী মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এই এলাকা ব্যস্ততম এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর থাকে, তাহলে আমাদের উপায় কী? আমরা কোথায় যাব?’

কালভার্ট রোড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বিমানের টিকিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত মো. হাসিবুর রহমান। সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁর কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ব্যস্ততম সড়ক। এখানে একটা ডাস্টবিন এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমাদের প্রতিদিনই এই গন্ধ নাকে নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়, কর্মস্থল থেকে ফিরতে হয়।’

একই সমস্যার কথা বলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা তাব্বাসসুম মেধা। তিনি বলেন, ‘রিকশায় করে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাই। সড়কের পাশে ডাস্টবিন পথচারীদের দুর্ভোগের কারণ। তীব্র দুর্গন্ধে এখান দিয়ে যাওয়া-আসা করা মুশকিল।’

এই রাস্তার মাথায়ই প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। ডাস্টবিন এলাকায় দাঁড়িয়েই তাঁরা গাড়ি চলাচলের নির্দেশনা দেন। সপ্তাহের কোনো না কোনো সময়েই ডিউটি পড়ে ট্রাফিক পুলিশ মো. ইকবালের। তিনি বলেন, ‘এই ডাস্টবিন এলাকায় যখন ডিউটি করি তখন দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে যায়। তবু এখানে থেকেই আমাদের ডিউটি করতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ডাস্টবিনের কারণে আশপাশের ক্রেতা ও বিক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়ে।’

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইয়াসির হোসেন বলেন, ‘লোকজনের অসুবিধা হয় জানি। আমরা সময়মতো ময়লা সরানোর চেষ্টা করি। তার পরও সব সময় ময়লা ফেলে শেষ করা যায় না। ময়লা ফেলার জন্য দরকারি গাড়ির সংখ্যাও কম। আমরা কী করতাম কন?’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম বলেন, ‘যারা ময়লা অপসারণে নিয়োজিত, তাদের প্রতি নির্দেশনা আছে যেন তারা ভালোমতো তাদের দায়িত্ব পালন করে। তাদের কর্মকাণ্ড তদারকি করার জন্য আমাদের মোবাইল টিমও রয়েছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকলেও ডাস্টবিন রাখার মতো বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় আমাদের কিছু করার থাকে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এ রকম ডাস্টবিন রয়েছে। সে ব্যাপারে আমরা বিকল্প কোনো উপায় আছে কি না খুঁজে বের করব। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে নগরবাসীর যাতে কোনো ভোগান্তি না হয়।’ সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত