প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু বুধবার

ডেস্ক রিপোর্ট : অভিবাসন নীতি ইস্যুতে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও অভিবাসন নীতি বিষয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি শুরু হবে। এই মামলাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা পরীক্ষার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে অভিবাসন বিষয়ে নতুন নীতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন ও সাদের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে গত ১০ এপ্রিল নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সাদকে বাদ দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হাইকোর্ট ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির আইনগত ভিত্তি বিষয়ে কখনও কিছু বলেনি। তবে এর আগে হাইকোর্ট বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেও শিশুকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অবৈধ তরুণ বা ড্রিমারসদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদানকারী রাজ্য ও শহরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কমানোর কথা বলা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে অভিবাসন নীতি ঘোষণা করলেও দায়িত্ব গ্রহণের সাতদিনের মাথায় অভিবাসন বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর দ্বিতীয় দফায় জুন মাসে ড্রিমার্সদের বের করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। কনজারভেটিভ সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এসব বিষয় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করা হবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রধান বিরোধিতাকারী হিসেবে রয়েছে হাওয়াই রাজ্য। রাজ্যটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এছাড়া কোনও ধর্মকে অন্য ধর্মের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া যাবে না মর্মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের নির্দেশনারও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

হাওয়াই রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর দোগ চিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই মুহুর্তে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে কলঙ্কিত ও প্রান্তিক করে ফেলার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের মূল্যবোধকে অবমাননা করছে’।

তবে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কারণ গত ৪ ডিসেম্বর আইনী প্রক্রিয়া চলাকালীন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখার অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের করা আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
গত ১৭ এপ্রিল আরেকটি অভিবাসন সম্পর্কিত মামলার রায় হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর সহিংস অপরাধ করায় নাগরিকত্ব বাতিল করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনী ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালত। ট্রাম্প প্রশাসনের পাশাপাশি ওবামা প্রশাসনও আইনের ধারাটিকে সমর্থন করে আসছিল। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত