প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ. লীগে তিনের ‘লড়াই’, বিএনপির ‘আস্থা’ নতুনে

ডেস্ক রিপোর্ট : মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-মাদারীপুর সদর উপজেলার একাংশ) আসনকেও আওয়ামী লীগের দুর্গ মনে করা হয়। তবে এখানে ক্ষমতাসীন দলটিতে গ্রুপিং রয়েছে। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ক আলোচনায় আছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, বর্তমান সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দলীয় কোন্দল। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে বিএনপি।
আওয়ামী লীগ : কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের একসময়ের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এই আসন দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষানুরাগী হিসেবে খ্যাত সৈয়দ আবুল হোসেন দীর্ঘদিন এই আসনে দলকে এককভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তিনি কালকিনিসহ মাদারীপুরে বেশ কয়েকটি এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্কুল ও কলেজ স্থাপন করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ মানুষের বিপদ-আপদে নানা ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন। সে কারণে ভোটারদের মনে তিনি স্থান করে নিয়েছেন। ভদ্র ও মার্জিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাঁকে খুব পছন্দ করেন।

সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯১ সাল থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একবার প্রতিমন্ত্রী ও দুইবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের পর তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যান। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আবুল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর দাবি আছে। দলের কালকিনি শাখার ত্যাগী ও পুরনো নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আবুল হোসনকেই মনোনয়ন দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।
কালকিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক বলেন, বিশ্বব্যাংক সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নামে যে অপবাদ দিয়েছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কালকিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি এবার সৈয়দ আবুল হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক। তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর-৩ সংসদীয় এলাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ ছাড়া এই আসনে মনোনয়ন আলোচনায় আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম মাদারীপুর সদরের সন্তান হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

আবদুস সোবহান গোলাপের সমর্থকরা বলছে, এ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে তারা অনুরোধ জানাবে।
সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ‘দলীয় প্রধান দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’
আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’
বিএনপি : সম্প্রতিক সময়ে কালকিনি উপজেলায় বিএনপির কর্মকাণ্ড অনেকটাই ঝিমিয়ে গেছে। মাদারীপুর-৩ আসনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন আলোচনায় তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশ।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক এলাকার প্রবীণদের মাঝে জনপ্রিয়। তিনি ১৯৮৮ সালে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে প্রথম সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
মাশুক বলেন, ‘সব সময় দলের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তাই দল যে সিদ্ধান্ত নিবে, তাই মেনে নিব। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিব।’
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় দলের কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশও নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে তাঁর সমর্থকরা দাবি করছে।
আসাদুজ্জামান পলাশ বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করেছি। তাই দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল যদি মনোনয়ন দেয়, নির্বাচনে অংশ নিব এবং মাদারীপুর-৩ আসনের মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সী বলেন, ‘দলের প্রধান যাঁকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তাঁকে নিয়েই নির্বাচন করব এবং জয়ী হব বলে আশা রাখি।
জাতীয় পার্টি : সংসদের বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চান দলের মাদারীপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালকিনি উপজেলা কমিটির সভাপতি এম এ খালেক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকারের শরিক দল। তাই দলের সিদ্ধান্ত থাকলে আমি নিজে এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিব। আমি দীর্ঘদিন ধরে কালকিনি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। আশা করি দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাকে মনোনয়ন দিবেন।’
এ ছাড়া এই আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত