প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন
শ্রমিক ও আঞ্চলিক ভোটাররাই বড় ফ্যাক্টর

আবুল বাশার নূরু: গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন কাল। দুই সিটি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হচ্ছে ২৪ এপ্রিল থেকে। এদিন প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। যদিও দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রাথীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী ১৫ মে একই দিনে দুই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থীরা। প্রথমবারের মত এই দুই সিটিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে গাজীপুর ও খুলনা সিটির নির্বাচনের দিকে রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি রয়েছে।

দুই সিটিতে নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন, শ্রমিক আর আঞ্চলিক ভোটাররাই যে জয় পরাজয়ের মূল ফ্যাক্টর সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পূরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯১ হাজার ১০৭ জন। আর নারী ভোটার ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৮ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই পোষাক শ্রমিক আর আঞ্চলিক ভোটার। আঞ্চলিক ভোটারদের মধ্যে নরসিংদী, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ভোটারই বেশী। এসব জেলার রয়েছে একাধিক সমিতি। ভোটের হাওয়া শুরু হলেই আঞ্চলিক সমিতিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে পোষাক শ্রমিক ও আঞ্চলিক ভোটারদের পক্ষ্যে আনতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দলই বিশেষ উদ্যোগ দিয়েছিল। এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয় দলই আঞ্চলিক ভোটারদের জন্য বিশেষ টার্গেট নিয়েছে।

গাজীপুরের স্থানীয় ভোটার মধ্যে রাজনীতির বাইরে আঞ্চলিক প্রার্থীর প্রতি বিশেষ দরদ দেখা যায়। ২০১৩ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ছিলেন এ্যাভভোকেট আজমতউল্লাহ খান। তিনি টঙ্গীর বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক এম এ মান্নান। তিনি গাজীপুরের বাসিন্দা। গাজীপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার আওয়ামী লীগের অনেক ভোট আঞ্চলিকতার টানে মান্নানকে ভোট দিয়েছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। এবারের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার টঙ্গীর বাসিন্দা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সদর এলাকার বাসিন্দা। টঙ্গীর থেকে গাজীপুর সদর এলাকায় ভোটার সংখ্যা দ্বিগুন।

খুলনা সিটি মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন। খুলনাতে শ্রমিক ভোটার ৬০ হাজার। হিন্দু ভোটার ৭০ হাজার। বস্তিবাসী ভোট ১ লাখের মত। জানা গেছে, মোট ভোটারের অর্ধেকই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত। গোপালগঞ্জ, বরিশাল, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, চাঁদপুরের ভোটাররা সব নির্বাচনেই বিশেষ ভ‚মিকা রাখে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছেন শ্রমিক ও আঞ্চলিক ভোটার ছাড়াও এবারের নতুন ভোটাররাও জয়-পরাজয়ের বড় ভ‚মিকা রাখবে। ৫২ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে খূলনা সিটিতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত