প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বাংলাদেশের বীমাখাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি আছে’

ফয়সাল মেহেদী : বীমা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি খাত। অথচ বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা অনেক বেশি হলেও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে আছে এ খাতটি। জিডিপিতে এখনও বীমাখাতের অবদান ১ শতাংশেরও কম। বীমা শিল্পেরপ্রতি জনগণের নেতিবাচক ধারণা যেমন আছে। তেমনি আছে আস্থার অভাব। এ খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতিও রয়ে গেছে। বিশেষ করে মার্কেটিংয়ের লোকদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ না দেওয়ায় বীমার গুরুত্ব ও পণ্য সম্পর্কে তারা গ্রাহকদের সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বীমাশিল্প। বীমার প্রয়োজনীয়তা এবং কোনো পলিসি করলে কি সুবিধা পাওয়া যাবে তার সঠিক তথ্য জানাতে পারলে সবাই নিজ থেকেই বীমা করতে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খাজা মানযার নাদিম। সম্প্রতি এই প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
মানযার নাদিম বলেন, বীমাশিল্পে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ই গলদ আছে। বেশিভাগ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমটা ঠিকভাবে পালন করা হয় না। মার্কেটিং, আন্ডার রাইটিং এবং ডেক্সে মেধাবী তরুণ ছেলে-মেয়েদের সেভাবে নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, একটা প্রোডাক্ট কিভাবে সেল করতে হবে, সেটাতে কি সুবিধা আছে মার্কেটিংয়ের লোকদের সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই টার্গেট দিয়ে মার্কেটিংয়ে নামিয়ে দেয়। এটা একদমই ঠিক না। মার্কেটিং করা উচিত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে। মার্কেটিংয়ে দেওয়ার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত প্রাশিক্ষণ দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা তরুণদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি এবং তাদেরকে টানা তিনমাস প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবসায়ের জন্য মার্কেটিংয়ে ছাড়া হয়।
কমিশন বাণিজ্য প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, কমিশন প্রদান নিয়ে বীমাখাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। সবাই রাতারাতি বড় হতে চায়। ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষেত্রে বীমা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তারাও বীমা করতে গিয়ে দর কষাকষি করেন, ব্যবসা খোঁজেন। এমনকি কম টাকায় বীমা করতে গিয়ে প্রোডাক্টে কি আছে তা জানারও প্রয়োজন মনে করেন না। যারা বীমা করে তারাও সবকিছু ঠিকভাবে বোঝান না। এতে কোম্পানি ও গ্রাহকের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, মার্কেট নষ্ট হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে।
দাবি পরিশোধে দীর্ঘ সূত্রতার বিষয়ে নাদিম বলেন, বীমা কোম্পানি দাবি পরিশোধ করছে না এমন অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পাশাপাশি বীমা গ্রহীতারও দায় আছে। ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সে বর্তমানে কোনো দাবি অপরিশোধিত নেই। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই দাবি পরিশোধের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় ক্লায়েন্টরাই আমাদের অসহযোগিতা করেন। দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুই পক্ষেরই সহযোগিতা দরকার।
আইডিআরএ সম্পর্কে তিনি বলেন, আইডিআরএতে বর্তমানে যারা রয়েছেন তারা বীমাশিল্পের উন্নয়নে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। নতুন নতুন নীতিমালা প্রনয়ণের কাজ করছেন। ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও সলভেন্সি মার্জিন নীতিমালা চূড়ান্ত হলে কোম্পানিগুলো নিয়মের মধ্যে চলে আসবে। দাবি পরিশোধ, কমিশন বাণিজ্য বন্ধেও কর্তৃপক্ষের বেশ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ তাদের কাজে দৃঢ় থাকলে এবং সময়োপযোগী বীমাপণ্য চালু হলে খাতটি জনপ্রিয় হতে বেশি সময় লাগবে না। জনগণের আস্থা ফেরানো গেলে ব্যাংকের তুলনায় বীমাখাত হবে সেরা বলে মনে করেন এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার জন্য কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশে প্রথম স্বাস্থ্যবীমা চালু করার পর অনেকেই শুরু করেছে। আমরা ব্যাংক গ্যারান্টির জন্য নতুন প্রডাক্ট ‘ব্যাংকান্স্যুরেন্স’ শিগগিরই বাজারে ছাড়বো। এই পলিসি করার পর ঋণগ্রহীতা দুর্ঘটনায় পড়লে সব ঋণ পরিশোধ করবে বীমা কোম্পানি। এটা চালু হলে ঋণের জন্য জামানতের দরকার হবে না। খেলাপি ঋণও কমবে।
এই সিইও আরও বলেন,  ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লন্ডন ভিত্তিক কোম্পানি হওয়ায় এর গভীরতা অনেক বেশি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতি তিনমাস পরপর উদ্যোক্তারা কোম্পানির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে আসেন। আমরা সর্বদা চেষ্টা করছি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকের তালিকায় রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত