শিরোনাম
◈ শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই সমাধান সম্ভব, তারেক রহমানের দ্রুত ভারত সফর চান দীনেশ ত্রিবেদী ◈ উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের উইন্ডস্ক্রিনে ফাটল, নেপালে আটকা ১২৭ যাত্রী ◈ বড় ভূমিকম্পের আগেই মহাপরিকল্পনা সরকারের, ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল ◈ রাজধানীতে চালু হচ্ছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস: নিরাপদ গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত ◈ আরেকটি বড় জয় বাংলাদেশের, মাল‌য়ে‌শিয়া‌কে হোয়াইটওয়াশ কর‌লো জু‌নিয়র টাইগাররা ◈ বাংলাদেশকে অন্য দেশের মতো নয়, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই: তারেক রহমান ◈ রাজধানী থেকে দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার ◈ বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিশ্ব মিডিয়া ◈ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, আরব দেশগুলোতে কি প্রভাব হারাচ্ছেন ট্রাম্প?

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ০২:০৪ রাত
আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ০২:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এনোনটেক্স তৈরী পোশাক বিশ্বের প্রায় ৬০ টি দেশে রফতানি হচ্ছে

এনোনটেক্স তৈরী পোশাক বিশ্বের প্রায় ৬০ টি দেশে রফতানি হচ্ছে। নিজেদের অর্থায়নে আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান বাজারে আসছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত তৈরী পোশাক শিল্প। আর এই শিল্পের বিকাশ ও বিস্তার ঘটিয়ে উন্নয়ন খাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলছে এনোনটেক্স গ্রুপভূক্ত, সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ। টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে নিশাতনগরে গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন ও স্বাস্থ্যসম্মত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের শতকরা পঞ্চান্ন ভাগই নারী শ্রমিক। তাদের জন্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই নিজস্ব উন্নতমানের আবাসন ব্যবস্থা। রয়েছে চিকিৎসারও সুব্যবস্থা। সেইসাথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সর্বাধুনিক অগ্নি নির্বাপন সুবিধাদি।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ন্যায় এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে নিজস্ব ফায়ার ট্রাক। প্রায় পঞ্চাশ হাজার গ্যালন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ফায়ার ট্রাকটি পরিচালনার জন্য রয়েছে একদল অভিজ্ঞ ও দক্ষ চৌকস অগ্নি নির্বাপক কর্মী। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে পরিবেশবান্ধব বায়োলজিক্যাল ইটিপি যা দ্বারা দৈনিক প্রায় দুই লক্ষ লিটার পানি পরিশোধন করা হচ্ছে, রয়েছে পরিশোধিত পানি সরবরাহ করার জন্য ছয় লক্ষ লিটার পানি প্রতি ঘন্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ডব্লিউটিপি। প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শিফটে প্রায় ছাব্বিশ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে বিনামূল্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আবাসন সুবিধা। ব্যবসায়ীদের কঠোর শ্রম, মেধা ও অভিজ্ঞতার আলোকে মাত্র দশ বছরে শতভাগ রফতানিমূখী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা আর্ন্তজাতিক বাজারে সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্রমাগত সেই চাহিদা বেড়েই চলছে।

বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থেকে নানা প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি অতিক্রম করে এনোনটেক্স গ্রুপভূক্ত, সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশ্ববাজারে সগর্বে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক খাত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শতভাগ রফতানিমূলক শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদিত তৈরী পোশাক ও অন্যান্য পণ্যসমূহের গুণগতমান উন্নত হওয়ার কারনে এর বিদেশী ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে নিশাতনগরে প্রায় ৪৫০ বিঘা জমির উপর এনোনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক-১ গড়ে উঠেছে। ১১ টি বৃহৎ শেড ও ৫টি বহুতল ভবনে চলছে উৎপাদন কার্যক্রম। শ্রমিক-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য রয়েছে দুইটি বহুতল আবাসিক ভবন।

এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী শ্রমিক মোসাম্মৎ রোজিনা বেগম জানান যে, প্রতি মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যেই তারা নিয়মিত বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসক মন্ডলী দ্বারা বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবাও পেয়ে আসছেন। এছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ”এনোনটেক্স হেলথ ক্লিনিক”-এর উদ্বোধন করে গেছেন, যার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকলে বিনামূল্যে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করবেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে,প্রতিষ্ঠানটির শুধু জমির বর্তমান বাজার মূল্য ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই শিল্প গ্রুপটির রয়েছে ২২ টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যসমূহ বিশ্বের প্রায় ৬০ টি দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম ফেরদৌস জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ শ্রমিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গোষ্ঠি, যা সবসময়ই শ্রমিক ও পরিবেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, স্থাপিত প্রকল্পসমূহ পরিচালনা করতে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৫ শত কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। আমাদের নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট হতে ৩৩ মেগাওয়াট ও ফার্নেস পাওয়ার প্ল্যান্ট হতে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়