প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাড়াশে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত মহিলা মার্কেট পুরুষদের দখলে

জাকির আকন , চলনবিল: চলনবিল এলাকার অবহেলিত নারীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সরকারী অর্থায়নে নির্মিত ৩টি মহিলা মার্কেটগুলো এখন তাদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে দোকান গুলো দখলে রেখে পরিচালনা করছে পুরুষরাই ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার দেশী গ্রাম ইউনিয়নের কাটাগারী হাট , নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ হাঁট ও তাড়াশ সদর বাজারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এর অর্থায়নে নিমার্ণ করা হয় ৩টি মহিলা মার্কেট। ওই মার্কেট গুলো নির্মিত হওয়ার পর থেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বরাদ্দ দেওয়ার কারণে নারী উদ্দ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে না পারায় সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে।

এমনকি কোন নারী ব্যবসায়ী উদ্দ্যোক্তা না পাওয়ায় তাড়াশের নওগাঁ হাট মহিলা মার্কেট দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত হাট কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবিক অর্থে তদারকি না থাকায় মার্কেটের প্রায় সকল দোকানই পুরুষদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের নারী আত্মীয় স্বজনের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। আবার অনেকেই মোটা অংকের (সিকিউরিটি মানি) টাকা নিয়ে অন্যদের নিকট ভাড়া দিয়েছেন।

এতে করে এখনো পর্যন্ত উপজেলার ৩টি মার্কেটের বদৌলতে কোথাও নারী উদ্দ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। যদিও ওই ৩টি মহিলা মার্কেট নির্মাণ নীতিমালায় বলা হয়েছে বাজারে দোকান রয়েছে কিন্তু মানসম্মত নয়, মহিলা মুক্তিযোদ্ধা অথবা শহীদ পরিবারের সদস্য, উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নারী, বিধবা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা, পরিবার প্রধান মহিলা যিনি ব্যবসা করতে আগ্রহী, অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল এমন নারীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তার দেখা মেলেনি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কাটাগাড়ী বাজারে ৫ কক্ষের মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। আর মহিলা মার্কেটের ১ নং কক্ষ উত্তর শ্যামপুরের প্রভাবশালী খলিলুরের স্ত্রী লাভলী খাতুনের নামে বরাদ্দ, ২নং কক্ষ একই গ্রামের প্রভাবশালী রাবন কুমারের স্ত্রী সবিতা রানীর নামে বরাদ্দ, ৫নং কক্ষ বলদী পাড়া গ্রামের আল মামুনের স্ত্রী মমতা খাতুনের নামে বরাদ্দ, ৪নং কক্ষ উত্তর শ্যামপুরের শাহআলমের স্ত্রী আয়েশা খাতুনের নামে বরাদ্দ, ৩নং কক্ষ একই গ্রামের ডা: রওশন আলীর স্ত্রী রপবান খাতুনের নামে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। অথচ সে সকল মহিলারা কেউ ওই মহিলা মার্কেটে ব্যবসা করেন না।

অথচ নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি দোকানের প্রতি বর্গফুট হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে। প্রাপ্ত ভাড়ার শতকরা পাঁচ ভাগ সরকারকে ভূমি রাজস্ব খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। ভাড়ার ১৫ ভাগ মার্কেটের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে। বাকি ৮০ভাগ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌর পরিষদের তহবিলে জমা হবে।

কোনোভাবেই বরাদ্দ পাওয়া দোকান অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না তাছাড়া খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এরা এলাকার বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বর্গের স্বজন। উপজেলার অপর তাড়াশের নওগাঁ হাট মহিলা মার্কেট দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। আরো দুটি মহিলা মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীই পুরুষষ।

এ প্রসঙ্গে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, মহিলা মার্কেটের কক্ষগুলো যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের আত্মীয়-স্বজনরাই ব্যবসা করছেন। নারীরা কেন ব্যবসা করছেন না ?

এ প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, উদ্দ্যোগী নারী ব্যবসায়ী না পেলে কি করার আছে । এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, প্রকৌশল বিভাগ মহিলা মার্কেটগুলো শুধু নির্মাণ করেছেন। নারী উদ্দ্যোক্তাদের বরাদ্দ ও পরিচালনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও হাট বাজার পরিচালনা কমিটির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত