প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ির ছাদে ‘অক্সিজেন ফ্যাক্টরি’

আবু হোসাইন শুভ :মিতুল-মিন্তি দম্পতি তাদের বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন মনোরম একটি বাগান। ফল, ফুল, ঔষধি, সবজি, মসলা–সবই আছে সেখানে। ছোট এ পরিসরে একশ’রও বেশি গাছ লাগিয়েছেন তারা। ইট-পাথরের এ শহরে ভোর হলে পাখির কিচিরমিচিরে ভরে ওঠে তাদের বাড়ি। স্নিগ্ধ রুচির এ দম্পতি তাদের ছাদ বাগানের নাম দিয়েছেন ‘অক্সিজেন ফ্যাক্টরি’।

রাজধানীর কল্যাণপুরের মিতুল-মিন্তির মতো এই শহরে অনেকেই এখন বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় একটু সবুজের ছোঁয়া রাখার দিকে ঝুঁকছেন। রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকার বাড়ির বারান্দা বা ছাদ থেকে গাছপালার উঁকিঝুঁকি দেখা যায়। কেউ শখের বসে কেউবা পরিবেশ রক্ষায় সচেতনভাবেই বাসস্থানে গাছগাছালি রাখছেন।

মিতুল-মিন্তি দম্পতি তাদের বাসার ছাদে সব রকমের গাছই লাগিয়েছেন। তাদের এই ‘অক্সিজেন ফ্যাক্টরি’র ঔষধির মধ্যে আছে থানকুনি, তুলসী, তিন রকমের পুদিনা, এলোভেরাসহ অনেক কিছু। ফলের মধ্যে রয়েছে দুই রকমের আম, তিন রকমের পেয়ারা, মালবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, থাই জামরুল, মালটা, লেবুসহ আরও অনেক ধরনের ফল গাছ। মসলার মধ্যে রয়েছে অরিগানো, দারুচিনি, কারিপাতা, তেজপাতা, চুই এবং পোলাও পাতা। সবজির মধ্যে আছে ফুলকপি, চেরি টমেটো, স্কোয়াস, চায়না ক্যাবেজ, চায়না সুপারলিফ, চায়না লেটুস, বিভিন্ন ধরনের শাক, গাজরসহ আরও অনেক সবজি।

এ রকম বাগান করার কারণ তুলে ধরে বিন্তি বলেন,‘আমরা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি বা বিনোদনের জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজনই মনে করি না। বাসার ছাদের এই বাগান স্ট্রেস অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এছাড়া, এখান থেকে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, আমাদের দেখাদেখি আশেপাশের বাড়িতেও বাগান হচ্ছে।’

গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে বাড়ির ছাদে বাগান তৈরিতে উৎসাহ তৈরি হয়েছে ব্যাপক আকারে। সুন্দর গৃহকোণ এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেনপ্রাপ্তি তথা পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে অনেকেই এমন বাগান তৈরি করছেন। যাদের ছাদের সুবিধা নেই, তারা বাসার বারান্দায় টবে গাছ লাগাচ্ছেন। কৃষি অধিদফতর বলছে, ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার বাগান রয়েছে বিভিন্ন ভবনে। প্রতিদিনই সেই সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা দিয়েছেন,যারা বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় বাগান গড়ে তুলবেন, তাদের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স ১০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।

নগরবাসীর এমন বাগান তৈরিতে নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে কিছু অনলাইনভিত্তিক সংগঠন। এরমধ্যে রয়েছে ‘এসো বাগান করি’ এবং ‘সবুজ বাগান সোসাইটি’। এসব গ্রুপের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মানুষ যুক্ত হচ্ছে বাগান করার আগ্রহ নিয়ে। এসব গ্রুপের সদস্যরা একে অপরকে গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাগান করার বিষয়ে সবরকম সাহায্য করে থাকেন। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত