প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈশাখের শুরুতেই বেড়েছে ডায়রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : বৈশাখের দাবদাহে যখন গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, তখন চোখের সামনে যে ঠাণ্ডা পানীয়ই দেখা যাক না কেন, তা দিয়ে গলা ভেজানোয় মন পাগল হয়ে ওঠে। ওই পানীয় বিশুদ্ধ না দূষিত, তা আর দেখার কথা মাথায় থাকে না। আর এভাবেই খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানীর অনেকে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এপ্রিল মাসেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তীব্র গরমের আগেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ায় আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, সাধারণত শীতের শুরুতে ও গরমে (এপ্রিল-জুন মাস) ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু চলতি বছর তীব্র গরম শুরু হওয়ার আগেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অনেকে। সময়ের আগে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির লাইন দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সেসব পাইপের ছিদ্র বা ফাটা অংশ দিয়ে পয়ঃনিস্কাশনের পানি ঢুকে পড়ছে। আর ওই পানি রান্না, খাওয়া ও থালাবাসন ধোয়ায় ব্যবহার করায় ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগ বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি) হাসপাতালে ঢুকেই দেখা গেল রোগী সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। চারপাশে শিশুরা কান্নাকাটি করে চলেছে। ফাঁকা নেই একটি শয্যাও। শুধু শিশু নয়, আছে প্রাপ্তবয়স্করাও।

ভোর থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশু জোনায়েদ। তার মা পারভীন আক্তার বলেন, গত রাত থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তার সন্তান। কোনো গতি না দেখে লালবাগের বাড়ি থেকে ভোরেই হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাকে। কিন্তু রোগীর চাপে এখনও পর্যন্ত ডাক্তার দেখার সুযোগ পাননি। তবে স্যালাইন চলছে।

সোয়ারিঘাট থেকে শিশুসন্তানকে নিয়ে এসেছেন রাবেয়া বেগম। তিনি জানান, বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। এখন এখানে চিকিৎসা চলছে। তার গায়ে জ্বর, কিছুই খায় না। ডাক্তার আরও কিছুদিন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইসিডিডিআর’বির রোগী ভর্তির রেকর্ডে দেখা যায়, ১৩ এপ্রিল রোগী ভর্তি হয়েছিল ৫৩৮ জন। এরপর প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ১৮ এপ্রিল রোগী ভর্তি হয়েছে ৬১৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই শিশু।

চিকিৎসকরা জানান, ৩৫ শতাংশ রোগী আসছে তীব্র ডায়রিয়ার লক্ষণ নিয়ে। তীব্র ডায়রিয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয় যায়। অল্প সময়ে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, দক্ষিণখান, বাড্ডা, লালবাগ, মিরপুর, মুলাইদ, মোহাম্মদপুর, রমনা থেকে বেশি রোগী হাসপাতালে আসছে। কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকেও রোগী আসছে।

হাসপাতালটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম তারিকুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, গত বছর এপ্রিল মাসে দিনে সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০০। এ বছর তা প্রায় ৭০০। মাসের প্রথম সপ্তাহে রোগীর চাপ বেশি ছিল বলে তিনি জানান।

আইসিডিডিআর’বির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আজাহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘বৈশাখ শুরুর আগেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এর একমাত্র কারণ রাজধানীর কোনো কোনো স্থানে পয়ঃনিস্কাশন ও পানির লাইন এক হয়ে গেছে। আবার কিছু স্থানে পয়ঃনিস্কাশন লাইনের সংস্পর্শে ট্যাপের পানি দূষিত হয়ে গেছে। ফলে দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হচ্ছে। এ ছাড়া, অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিক উপায়ে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা ইত্যাদি কারণও ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।’

তিনি আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য রাস্তার ধারের দোকান থেকে যে পানি বা শরবত পান করছে, তা বিশুদ্ধ নয়। এ কারণে রোগ সারার বদলে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অস্বাস্থ্যকর শরবত বিক্রি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির সংকট দূর করতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি সরবরাহ করতে হবে। ওয়াসার পানি নিয়েও নানা কথা আছে। ওয়াসাকে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সহজলভ্য করতে হবে স্যালাইন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা যেন চিকিৎসা পায়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত