প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ি ফিরেছেন আদিবাসী দুই নেত্রী

আবু হোসাইন শুভ : অপহরণকারীরা কখনও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেনি তাদের। তবে এক মাস একদিন আটকে রেখেছিল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাঁচটি স্থানে। প্রতিবারই স্থান পরিবর্তনের সময় হেঁটে যেতে হতো তাদের। রাতের অন্ধকারে দুর্গম পথ ধরে হাঁটতে হতো তাদের। আটকে রাখা হতো কখনও অন্ধকার ঘরে, কখনও বা নির্জন কুঁড়েঘরে ও বনে।

শুক্রবার রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার দুর্গম শুকনোছড়ি এলাকায় অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমা। তার পর অপহরণ-পরবর্তী দুঃসহ এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

দয়াসোনা এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের প্রধান তপন চাকমা বর্মাসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণ মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলার এপিবিএন স্কুল গেট এলাকায় ইউপিডিএফের সমর্থিত সংগঠন হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে মুক্তি দেয় অপহরণকারীরা।

গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির সদর উপজেলার কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত মন্টি ও দয়াসোনাকে অস্ত্রের মূখে অপহরণ করে। এ সময় অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হন ধর্ম সিং চাকমা।

মুক্তি পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে মন্টি চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার মরাচেঙে এবং দয়াসোনা চাকমা কাউখালী উপজেলার দুর্গম শুকনোছড়ি গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। তারা দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান জগদীশ চাকমা দয়াসোনা তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে এসেছেন জানিয়ে বলেন, তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছেন।

শুক্রবার কাউখালীর শুকনোছড়ির গ্রামের বাড়িতে দয়াসোনাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমান তার আত্মীয়স্বজন ও সংগঠনের সহকর্মীরা ছাড়াও গ্রামের মানুষ। তাকে ফিরে পেয়ে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় দয়াসোনা চাকমা কেঁদে ফেলেন।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা শাখার সভাপতি রুপসী চাকমা এই অপহরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য দুই নেত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাস একদিন পর দয়াসোনা ও মন্টি চাকমাকে ফিরে পাওয়ায় তাদের আন্দোলন আরও শানিত হবে এবং নেতৃত্বও আরও শক্তিশালী হবে।

দয়াসোনা চাকমা অপহরণের পর কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, অপহরণকারীরা গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের। খারাপ আচরণের শিকার না হলেও তাদের রাতের অন্ধকারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গম পথে হাঁটতে হয়েছে, যা ভীষণ কষ্টকর।

দয়াসোনা জানান, গত ১৮ মার্চ অপহরণের দিন তাদের নানিয়ারচর উপজেলার হাদামোলা ঘাট এলাকায় রাখা হয়। গত ২০ মার্চ তাদের দু’জনকে সেখান থেকে ইঞ্জিন বোটে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে নেওয়া হয়। এর পর গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ ও এমএন লারমা গ্রুপের জনসংহতি সমিতির (সংস্কারপন্থি) লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের দু’দিন দু’রাত হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায়। একটি কুঁড়েঘরে রাখা হয় তাদের। সেখানে অপহরণকারীরা জোর করে তাদের স্বাক্ষর ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। এ সময় তাদের বলতে হয় যে, গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ তাদের অপহরণ করেনি। প্রসিত বিকাশের নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ তাদের অপহরণ করেছে।

দয়াসোনা আরও জানান, মুক্তি পাওয়ার আগে তাদের দীঘিনালা উপজেলার বড়াদমে তিন দিন আটকে রাখা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার তাদের খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসে তেঁতুলতলা এপিবিএন স্কুল গেট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত