প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনিশ্চিত যাত্রাপথ! পাসপোর্ট হারিয়ে হন আরও অনিশ্চিত

সাজিয়া আক্তার: নিরাপদ জীবন ও ঝামেলাহীন পরিবেশ, এসব বিবেচনায় অনেকেরেই পছন্দ ইউরোপ। বিশ্বের দ্বিতীয় এই মহাদেশটি কোনো একটি স্থানে ঠাঁই নিতে পারলেই লাইফ সেট। এমন ধারনা পুঁজি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি বছর অবৈধভাবে সাগর পথ পাড়ি দেয় হাজারও বাংলাদেশি। তবে পাসপোর্ট হারিয়ে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয় তারা।

উত্তাল সমুদ্রে টিকে থাকার এই সংগ্রাম উন্নত জীবনের বাসনা। সীমান্তের কাঁটাতারের বাঁধা সেখানে আরো ক্ষিণ। স্বপ্নের ইউরোপে ঠায় নিতে প্রতিনিয়ত মৃত্যু পথ পারি দেন হাজারো শরণার্থী। মহাদেশ বিচারে ইতালির প্রথমেই রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার মানুষ। তবে চমকে দেওয়া খবর হল সাগর পথে ইউরোপ যাওয়ার তালিকায় প্রথম স্থান বাংলাদেশের। গেল বছর ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বেছে নেন ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথ। ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন লিবিয়াকে। সমুদ্রজল কিংবা সীমান্তের বেড়াজাল ছিন্নের পর শুরু হয় শরণার্থীদের প্রবাসজীবন।

একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়ার পর থেকে অনেক বাংলাদেশি উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমাতে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। যার ছোঁয়া লাগে ইউরোপের স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত ইতালিতে। বর্তমানে এখানে বাস করে ৩ লাখ বাংলাদেশি।

কিন্তু স্বপ্নের দেশে ঢুকলেই যে ঝামেলা শেষ এমটি ভাবারও কোনো কারণ নেই। কেননা দুর্গম যাত্রায় পাসপোর্ট হারিয়ে অনেকেরেই দিন কাটে দুর্বিসহ।

ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. হারুন বলেন, অফিসে গেলে দুর্ব্যবহার করে, এখানে অফিস কর্মকর্তা আছে ৪-৫ জন, তারা এক এক বার এক একজনের কাছে পাঠায়।

ইতালি প্রবাসী মাহবুবুর রহমান বলেন, টাকা দিয়ে নাকি পাসপোর্ট করে, টাকা দিয়ে যদি পাসপোর্ট করে তাহলে বাংলাদেশ থেকে এসে আমরা এখানে এতো লাঞ্ছিত হচ্ছি কেন।

ইতালিতে দীর্ঘদিন বাস করছেন এমন বাংলাদেশিদের মতে নিজেরদের করা ভুলেই নতুনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

প্রবাসী ব্যবসায়ী হাসান ইকবাল বলেন, কে বা কার বুদ্ধিতে পুরানো পাসপোর্ট আমরা ফেলে দেই? যখন এটা বাংলাদেশে পাসপোর্টের জন্য পাঠায় তার আগের যে ফিঙ্গার আর বর্তমানের যে ফিঙ্গার সাথে নাম, বয়স, বাবার নাম, ধর্ম মিল থাকে না।

প্রবাসী ব্যবসায়ী এম এরব মিন্ট বলেন, আমার মনে হয় পাসপোর্ট ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সরকারের গ্রহণ করা উচিত। নিয়ম কঠিন করা দরকার এবং নিয়ম জানিয়ে দেওয়া দরকার যে, এর বাইরে পাসপোর্ট দেয়া হবে না।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানায়, বর্তমানে পাসপোর্ট জটিলতার শিকার এমন বাংলাদেশি প্রায় দেড় হাজার। অস্বীকার করেন কর্মকর্তাদের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগটি।

ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট হয়, এখানে কোনো পরিবর্তন হয় না। এখান থেকে শুধু তথ্যগুলো অনলাইনে যায় এবং অনলাইনে যে তথ্য তা যদি তার আগের তথ্যের সাথে মিল থাকে তাহলে ৭ দিনের মধ্যে সে পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।

বিষয়টি সমাধানে ঢাকার পাসপোর্ট সদর দপ্তরের আন্তরিক পদক্ষেপ চান আবদুস সোবহান শিকদার।

সূত্র: চ্যানেল ২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত