প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধামরাইয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

মো. আল মামুন খান, ধামরাই: ধামরাই উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহারকারী এক চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রটি ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এবার খোদ পুলিশ বিভাগে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিতে গিয়ে উন্মোচন হলো এই চক্রটির।

ধামরাইয়ে পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার ঘটনায় ১৮ এপ্রিল (বুধবার) রাতে ৩ দালালসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি ও ডিএসবি পুলিশ। এসময় ঘুষের ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদও জব্দ করেছে পুলিশ। ধামরাইয়ের বাটুলিয়া, শ্রীরামপুর ও বাথুলি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের ১৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রার্থী উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (চাকুরি প্রার্থী), একই উপজেলার কালামপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন (চাকুরি প্রার্থী), সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আয়নাল হোসেন (দালাল), গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া হাতকোড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেন (দালাল) ও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বরুন্ডি গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল আলীম (দালাল)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে পুলিশের কনস্টেবল পদে আরেক চাকুরী প্রার্থী ধামরাই থানার ললিতনগর গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের পুত্র মো. মনোয়ার হোসেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ আল মামুন জানান, দালাল আয়নাল হোসেন, উজ্জল ও আব্দুল আলীম ধামরাইয়ের বাটুলিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১ ও ২০ মার্চ ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেয়। পরে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উর্ত্তীণ হয় রাজ্জাক। এতে ঢাকা জেলা ডিএসবির এসআই রবিউল ইসলাম প্রাথমিক যাচাই শেষে মুক্তিযোদ্ধা সনদটি জাল বলে সন্দেহ করেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেন রবিউল ইসলাম। পরে ১৮ এপ্রিল (বুধবার) রাতে ঢাকা উত্তরের ডিবি পুলিশের ওসি (তদন্ত) আবুল বাশার, এসআই মনিরুজ্জামান ও এসআই ইলিয়াসসহ পুলিশের একটি দল ধামরাইয়ের বাটুলিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে চাকরি প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাককে আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক দালাল আয়নাল হোসেন, উজ্জল ও আব্দুল আলীকে ঘুষের ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করেন তারা। এসময় জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ১৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ঢাকা জেলা ডিএসবি’র এসআই রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের একটি সূত্র মারফত জানা গেছে, ঢাকা জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বেড়িয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাবার নাম ঠিক রেখে প্রকৃত সার্টিফিকেট তুলে দেয় তিন প্রার্থীর হাতে। সেই সার্টিফিকেটের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে জালিয়াতির ঘটনা।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূইয়া জানান, বিষয়টি টের পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উর্ত্তীণ মনোয়ার হোসেন আগেই গা ঢাকা দেন। তবে প্রতারকরা প্রত্যেকেই সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, ঢাকা জেলা থেকে নারী পুরুষসহ ৮৩৬ জন পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পাবে। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ২৫০জন থাকলেও প্রার্থী ছিল ৩৩জন।

পুলিশ সুপার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কনস্টেবল পদে চাকুরী প্রার্থী মো. আ. রাজ্জাকের ভেরিফিকেশন করার সময় মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের সাথে বাড়ির অন্য কাগজপত্রে গরমিল পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, আ. রাজ্জাকের পিতা তোতা মিয়ার নামে মুক্তিযোদ্ধার যে সনদ দাখিল করা হয়েছে তাতে তোতা মিয়ার পিতার নাম মরহুম জৈয়নুদ্দিন তালুকদার লেখা রয়েছে। ভেরিফিকেশনে প্রার্থীর দাদার নাম গরমিল পাওয়া যায়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে জানায় আ: রাজ্জাক নামে তার কোন সন্তান নেই। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ৮ লক্ষ টাকা চুক্তিতে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জাল করে চাকুরী পাইয়ে দেয় আয়নাল, আলীম, উজ্জল, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন।

পুলিশ গ্রেপ্তাকৃত আয়নাল হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ ও আলিমের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। একইভাবে প্রার্থী মনির হোসেনের পিতার বাচ্চু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের সাথে প্রার্থীর দাদার নামে গরমিল রয়েছে। আরেক প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদের সাথেও একই গড়মিল পাওয়া যায়। তবে পুলিশ মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত