প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হয়েও চাহিদাপত্র না দেয়ায় ৯০ শতাংশই নিয়োগ পান না

জান্নাতুল ফেরদৌসী: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিসিএসে উত্তীর্ণদের ৯০ শতাংশই নিয়োগ পান না। মন্ত্রণালয়গুলো সময়মত চাহিদাপত্র না দেয়ায় এ বিপত্তি।

গত ৫ বছরে সরকারি বিভিন্ন পদে সব মিলিয়ে ৪ লাখ লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতি বছর এর চেয়ে বেশি সংখ্যক তরুণ তরুণী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ বিসিএস হলেও উত্তীর্ণদের ৯০ শতাংশই নিয়োগ পান না।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, উত্তীর্ণ প্রার্থীর বিষয়ের সাথে চাকরির বিষয় না মেলা এবং মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকমতো চাহিদাপত্র না দেয়ার কারণেও অনেক সময় নিয়োগ দেয়া যায়না।

২৮ থেকে ৩৫তম বিসিএসে ৪৯ হাজার ৬২৭জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ২৪হাজার ৮৭০ জন বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পান। বাকী ২৪ হাজার ৭৫৭ জনের মধ্যে ১৯ হাজার ৫৬০ জনই কোনো পদে নিয়োগ পাননি।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া শুরু হয় ২৮তম বিসিএস থেকে। ওই বিসিএসে উত্তীর্ণ ৫ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৯০ জন বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পান। বাকী ২ হাজার ৯১৫ জনের মাত্র ২৯৯ জন নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ পান।

২৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৩ হাজার ৩৪০ জনের মধ্যে মাত্র ১৯৩ জন, ৩০তম বিসিএসের ২ হাজার ৮১৩ জনের মধ্যে ৩৬৩, ৩১তম বিসিএসের ৩ হাজার ৪১৭ জনের মধ্যে ১২০ এবং ৩২ তম বিসিএসের ১ হাজার ৯১২ জনের মধ্যে মাত্র ৬৬ জন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পান।

বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদেও নিয়োগ দেয়া শুরু হয় ৩৩তম বিসিএস থেকে। ওই বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির পদে ৩৪৪ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬৮ জন- মোট ৯১২জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

৩৪তম বিসিএসে নিয়োগ পায় মোট ২ হাজার আর ৩৫ তম বিসিএসে ২ হাজার ১৬৬ জন। দেখা যাচ্ছে, এই ৮টি বিসিএসে উত্তীর্ণদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়োগ পায়নি।

প্রকৃত অর্থে প্রতিবছর ১ম থেকে চতুর্থ এই চার শ্রেণিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ হয়। এর অর্থ হলো, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে ৫ জনের একজনের সরকারি চাকরি ভাগ্যে জোটে। অন্যদিকে বিসিএসের পরিসংখ্যান বর্ষ গ্রন্থ ২০১৬তে দেখা যায়, ২০১৫ সালের সরকারি চাকরিতে মোট নিয়োগের ৭২ শতাংশ ছিল তৃতীয় শ্রেণির পদের বিপরীতে, প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ হয়েছে শতকরা ৭ ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য শতকরা ১৬ ভাগ। সব মিলিয়ে এটা শ্রমশক্তির ১০ ভাগের বেশি নয়।

সরকারি অফিস, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর মিলিয়ে এখন শূন্যপদের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি। প্রথম শ্রেণিতে শূন্যপদের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৪৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫৪ হাজার ২৯৪টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৭টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ৭৩ হাজার ৯৮৪টি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছর সময়ে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে প্রায় ২৫ হাজার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার নিয়োগ হয়েছে। অথচ বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাচ্ছেন। সূত্র: ডিবিসি নিউজ ‍

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ