প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষিত যুবক ও কিশোররা বেশি জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই চক্রে

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : রাজধানীতে শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে কিশোররাও জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে। তারা মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতেই এই অপরাধগুলো করে থাকে। আর এরকম ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়লেও মামলার সংখ্যা কমায় প্রশ্নের মুখে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতেই বেশি তৎপর এই ছিনতাইকারী চক্রগুলো। আর রাত নেমে আসলে এ আতঙ্ক বাড়ে কয়েকগুণ। রাজধানীর কিছু এলাকায় অনটেস্ট বা নম্বরপ্লেট বিহীন মোটরসাইকেল বা গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে এই ছিনতাই করতে। তেমনি ছিনতাই হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসের সামনের সড়কও।

ছিনতাইয়ের শিকার একজন বলেন, এখানে দেখেন একটা পুলিশ বক্স। বিপরীত পাশেই উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়। আর আমি ছিনতাই হয়েছি এখানে। তারমানে তো পুলিশের বাড়িতেই ছিনতাই হলাম।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোড ছাড়াও ফার্মগেট, কাওরান বাজার, রামপুরা, ধানমন্ডি, মিরপুর- ১ ও ২, শাহআলী, গাবতলী, দারুসসালাম এলাকাসহ বেশ কটি জায়গায় ছিনতাই নিত্য দিনের ঘটনা।

এছাড়া শুধুমাত্র হাতিরঝিল এলাকা ছিনতাইকারীদের বড় দুটি গ্রুপের হাতে নিয়ন্ত্রিত। এদের মাধ্যমেই চলে মাদক ব্যবসা। ছিনতাইয়ে জড়িত বেশিরভাগই কিশোর বয়সের। বেকারত্ব ছাড়াও মাদকের কারণে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে যাওয়া অন্যতম কারণ বলছে অপরাধের সাথে জড়িতরা। এছাড়া আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রকেনাকাটও হয় এই অর্থে।

ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত একজন বলেন, ইয়াবা বা এই ধরণের জিনিস খায় বলে ছিনতাই করে। আড়াইশ টাকা দিয়ে একটা ইয়াবা কিনে খাওয়ার পর পকেটে সিগারেট খাওয়ার মতো টাকা থাকে না।

অপর একজন বলেন, পুলিশকে চেক দিচ্ছে ছিনতাইকারীরা আর ছিনতাইকারীদের চেক দিচ্ছে পুলিশ।

পুলিশের গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলার সংখ্যা কমছে প্রতি বছর। কিন্তু ঘটনা ঘটলেও মামলার সংখ্যা কমে আসার ঘটনা যেনো বিশ্বয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছিলো ২৫৬টি, ২০১৫তে ১৭২টি, ২০১৬তে ১৫০টি এবং গত বছর ১৪২টি মামলা হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, অলিখিত এক ধরণের বোঝাপড়া বা প্রতিযোগিতা থাকে যে কোন থানায় যদি মামলাটা বেশি হয়, তাহলে দেখানো হয় যে ওই থানাটা খারাপ। প্রথমত অনেকে যেতেই চান না। তারপরেও যদি যান তাহলে এই কারণে সেটা রিপোর্টেড হয় না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এলাকাগুলোতে ছিনতাই দমনে তৎপর রয়েছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা করার পরামর্শ তাদের।

ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, যারা যারা অপরাধ করে তাদেরকে আটক রাখা প্রয়োজন। আর এই আটক রাখার প্রথম যে কৌশলটা আমাদের কাছে রয়েছে সেটা হচ্ছে মামলা।

এছাড়া এলাকাভিত্তিক ছিনতাই দমনে, এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং আরও বাড়ানোর কথা বলছেন ভুক্তোভোগী ও সাধারণ মানুষ।
সূত্র : সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত