প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আব্বু, এখন আসতে পারব না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : রুজিরোজগারের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তারা এখন লাশ। আল হোলাইফা শহরে গত মঙ্গলবার শেষরাতের ওই দুর্ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম। তাদের মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুজন এবং লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দুই সহোদর। সব পরিবারই নির্ভরশীল ছিল তাদের উপার্জনের ওপর। অনেক টাকা ঋণও রয়েছে নিহতদের কয়েকজনের। শোকের সঙ্গে তাই সংসার চলার, ঋণ পরিশোধের এবং প্রিয়জনের লাশ দেশে আনার দুশ্চিন্তাও ভর করেছে পরিবারগুলোতে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সরেজমিন প্রতিবেদন—

‘আব্বু, এখন আসতে পারব না’

‘১০ লাখ টাকার ঋণ আব্বুর কাঁধে আছে। কী করে আসব। আব্বু, এখন আসতে পারব না।’—দেশে আসার জন্য আট বছরের ছেলে সজীবের আবদারের জবাবে মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে এ কথা বলেছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এমরানুল হক সোহেল (৩৪)। সন্তানদের সঙ্গে স্বামীর এ কথাবার্তা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোহেলের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। ‘সেদিন মোবাইল ফোনে বাচ্চারা তাদের আব্বুকে দেশে আসতে বলে। ঋণের টাকা শোধ হলেই দেশে আসবেন বলে সন্তানদের আশ্বাস দেন সোহেল। পরে ছেলে সজীব (৮) ও মেয়ে মারুফার (২) কাছ থেকে হাসিমুখে বিদায় নেন। সেটাই হয়ে গেল শেষবিদায়,’ বলেন তাহমিনা।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সোহেলের সঙ্গে তাঁর আপন ভাই ইমামুল হক মুন্নাও (২২) নিহত হয়েছেন। তাঁরা চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মরহুম আবদুল হকের ছেলে। দুজনকে একসঙ্গে হারিয়ে তাঁদের মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। তাদের সান্ত্বনা জানাতে আসা লোকজনও কান্নায় ভেঙে পড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সোহেল ও মুন্নাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে নির্বাক হয়ে আছেন মা সেলিনা বেগম। মাঝেমধ্যে মূর্ছা যাচ্ছেন। পাশে বিলাপ করেই চলছেন নিহতদের ছোট বোন রাশেদা বেগম। ছেলে সজীব ও মেয়ে মারুফাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন সোহেলের স্ত্রী তাহমিনা। ১০ লক্ষাধিক টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে পুরো পরিবার এখন শোকসাগরে নিমজ্জিত।

তাহমিনা বলেন, ‘খবর পেয়েছি আমার স্বামীর লাশের কাছে এখনো দূতাবাসের কেউ যায় নাই। আমি সরকারের কাছে সহায়তা চাই, যেন আমার স্বামীকে দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আমার স্বামীর মুখ আমি শেষবারের মতো যেন দেখতে পাই।’

আঁর জাদুগরে (ছেলেদের) আনি দে রে’

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার নিহত দুই সহোদরের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কিছু সময় পর পর ‘আঁর জাদুগরে (ছেলেদের) আনি দে রে’ বলেই অচেতন হয়ে পড়ছেন তিনি। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা পাচ্ছে না কেউই। স্বজনরাও তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। নিহত সহোদর জসিম উদ্দিন ও মো. ইব্রাহিমের চরলরেঞ্চ গ্রামের বাড়িতে গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা গেল এই মর্মন্তুদ দৃশ্য।

‘এমন হবে জানলে ছেলেকে বিদেশে পাঠাতাম না’

ফেনীর ছেলে রাশেদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। গত বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে এলে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বজনরা। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ