প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরিয়ায় হামলা প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের অবাধ লাইসেন্স দেবে: কংগ্রেস

 লিহান লিমা: মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় হোয়াইট হাউসের জন্য পৃথিবীর যেকোন স্থানে যুদ্ধ ঘোষণা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন বেশ কিছু কংগ্রেস সদস্য। তারা মনে করছেন, এর ফলে সরকার আরো ঝুঁকিপূর্ণ হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে যার ফলে পূর্ণদ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, শুক্রবার নিজের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাট্টিসের বাধা সত্ত্বে সিরিয়ার ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ম্যাট্টিস চেয়েছিলেন, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যদিকে অনেক আইনপ্রণেতা কংগ্রেসকে অবহিত না করেই ও অনুমোদনহীন সিরিয়াতে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন।

তারা মনে করছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়ার যে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তা পুনরায় যাচাই-বাচাই করার সময় হয়েছে।

প্রসঙ্গত,ওই হামলার দুইদিন পরই সিনেট ‘অথরাইজেশন অব ইউজ মিলিটারি ফোর্স’-এইউএমএফ এর আওতায় প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রদান করে।

এই অনুমোদন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা এবং ট্রাম্প ১৪টি দেশে ৩৭টি সামরিক অভিযান চালিয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগেরই ৯/১১র সঙ্গে কোনরকম সম্পৃক্ততা নেই। মার্কিন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএইউ এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক নির্বাহী ফয়েস শেখর বলেন, ১৭ বছরের পুরনো এই আইন সম্পর্কে ভাবা প্রয়োজন।

এদিকে সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সর্তকতা জারি করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানায়, প্রয়োজনে রাশিয়া আসাদ সরকারের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। ব্লুমবার্গ জানায়, এটি ইসরায়েলসহ সিরিয়ার শত্রুদের জন্য সতর্কবার্তা। ইসরায়েলের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যদি রাশিয়া আসাদ সরকারকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিসাইল সরবরাহ করে তবে সিরিয় বিমানবাহিনী আরো শক্তিশালী হবে। এস-৩০০ তার ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই ধ্বংস করতে দিতে পারে।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান ক্রুজের সঙ্গে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে দেখা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন জানায়, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া সিরিয়াতে মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। জাতিসংঘেও দুই দেশ পরস্পরকে সমর্থন দিবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, আইএসকে উৎখাত করতে এবং রাশিয়া ও ইরানের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই সিরিয়াতে উপস্থিত থাকা উচিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে । ব্লুমবার্গ, টাইমস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ