প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা কমাচ্ছে পাকিস্তান : ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

নূর মাজিদ : যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র আমদানি কমিয়ে আনছে পাকিস্তান এবং একই সঙ্গে চীনা অস্ত্র আমদানির মাত্রা বাড়িয়েছে দেশটি। তবে এই প্রবণতা শুধু সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং প্রায় এক দশকের সামগ্রিক চিত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্কের অচলাবস্থায় পাকিস্তান ধীরে ধীরে চীনা অস্ত্রের প্রতি তার নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে তুলছে বলেই ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও মিত্রতা বিন্যাসে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখবে।

প্রায় ২০০০ শব্দের প্রতিবেদনটিতে দাবী করা হয়, সামরিক অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রযুক্তি তৈরির জন্য পাকিস্তানের চীন নির্ভরশীলতা বিগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামল থেকেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সেসময়, কংগ্রেস পাকিস্তানের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিক্রয় স্থগিত করে দেয়। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানী সামরিক নীতি-নির্ধারকদের মনে অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তখন থেকেই পাকিস্তান চীনা কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত নিজস্ব যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার এর উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। ফলশ্রুতিতে, বর্তমানে বিমানটি এফ-১৬ এর মতো সক্ষমতা অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে।

এছাড়াও, পিও রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষার সূত্র উল্লেখ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে ২০১০ সাল থেকে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র রপ্তানি বাৎসরিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২১ মিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সময় দেশটির চীনা অস্ত্র আমদানির পরিমাণও কিছুটা কমেছে যা ৭৪৭ মিলিয়ন থেকে কমে ৫১৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। কারণ হিসেবে বলা হয় চীনা সহযোগিতায় পাকিস্তানের নিজস্ব সমরাস্ত্র তৈরিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উষ্ণতা এবং কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে আরো চীনমুখী করে তুলবে বলেই ঐ রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তেমনটি হলে ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কোন জরুরী সহায়তার দরকার হলে তারা পাকিস্তানকে পাশে নাও পেতে পারে। ডন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত