প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৭ বছর পর উদযাপন হচ্ছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ

রিকু আমির : ‘খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবুন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৭ বছর পর উদযাপন হতে যাচ্ছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। আগামী ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল জাতীয় পুষ্টি পরিষদের ব্যানারে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে- জাতীয় পুষ্টি সেবা প্রকল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনজিও এবং বিদেশি দাতা সংস্থা।
জাতীয় পুষ্টি সেবা কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে জানান, যেহেতু এটা দীর্ঘদিন পর পালন করা হবে, সেহেতু এটা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা আছে। এটা একটা বৃহৎ কর্মযজ্ঞ। সপ্তাহটি পালনে এরই মধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ শেষ।
সরকারি উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া পুষ্টি বিষয়ক জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রম ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এই সপ্তাহ পালনকারী জাতীয় পুষ্টি পরিষদই পুরোপুরি অচল ছিল ওই সময়ে। গত দুই বছরে পুষ্টি পরিষদ সক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে সরকার। গত ১৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় গঠিত এই পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। পদাধিকার বলে এই পরিষদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭ বছর পর এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়- জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০১৮ উদযাপনের।
জানার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় পুষ্টি পরিষদের সচিব সুভাষ চন্দ্র সাহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। পরিষদ সূত্র বলছে- এখন থেকে নিয়মিত পালন করা হবে এই কর্মসূচি।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও প্রখ্যাত শিশু সার্জন অধ্যাপক আবদুল আজিজ বৃহস্পতিবার বিকালে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে বলেন, এ সময় দেশের মানুষ খাদ্যের অভাবে ছিল। তখন যে ধরণের খাদ্য পেত, সেটাই গ্রহণ করত। কিন্তু এখন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, মানুষের আর্থিক অবস্থাও উন্নত হয়েছে। এতে নানা ধরণের খাদ্য মানুষ গ্রহণ করতে পারছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- এতো খাদ্যের মাঝেও কোন খাদ্য পুষ্টিমান সমৃদ্ধ, কোন ধরণের খাদ্য স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ে তুলতে পারে। এসব জানাতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের মতন বৃহৎ কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ।
আরেকটি প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু-প্রাপ্ত বয়স্ক, বয়স্ক সবার মধ্যেই নানা ধরণের অসংক্রামক ব্যাধি বিস্তার লাভ করছে। এজন্য ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য, খাদ্যাভাস অনেকটা দায়ী। এ খাদ্যগ্রহণে দেহের পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে না।
আগামী ২৩ এপ্রিল ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে, এদিন একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালিও অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, খাদ্য, কৃষিসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়া দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুষ্টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহ জুড়েই পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত