প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কেন চাকরি পায়?

মো.তরিকুল হক : আমি ব্যক্তিগতভাবে কোটা সংস্কারের পক্ষের মানুষ। ৫৬ শতাংশ কোটায় নিয়োগ হলে মেধার অবমূল্যায়ন হয়। ৫৬ শতাংশ কোটার আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ । এই ৩০ শতাংশ কোটা দেখিয়ে বা শোনাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং আওয়ামীলীগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেমন করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়? এটা একটা মনস্তাত্বিক বিষয়। আমার বাবা ১০০ শতাংশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। কিন্তু ওনার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নেই। উনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। ওনার ছেলে বাংলাদেশে এক ভালো পদে চাকুরীর যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর তার প্রতিবেশী একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে যোগ্যতায় তার সন্তানটির সমকক্ষ নয়। কিন্তু তারপরও দেখা গেলো তার ছেলেটা কোটার কারণে চাকুরী পেয়ে গেলো। তখন আমার বাবা সংক্ষুব্ধ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এবং এক পর্যায়ে বিষয়টা এরকম চলে আসে যে, শালার মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য আমার ছেলেটার চাকরী হলো না। বা সুযোগ পেলো না। এখন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধা সর্বসাকুল্য ২ লক্ষ।

এই ২ লক্ষ মানুষের ১ লক্ষ মানুষের ছেলেমেয়েরা-ই সরকারী চাকুরীর ভালো পদে চাকরী করার মত যোগ্যতা নাইও। বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার এরাও তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। ওদের সন্তানেরা চাকরী খুঁেজ না বা চাকরী চায়ও না। চাকরী চাওয়ার মতো জায়গায় যায়ও না তারা। বাকি যে মানুষ তাদের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ তাদের কে বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে আমি পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি করে ফেলছি। গুটি কয়েক মুক্তিযুদ্ধার এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

এই মানুষগুলোকে, চাকরীর ক্ষেত্রে, ভর্তির ক্ষেত্রে অধিকতর সুযোগ দিলে, গুটি কয়জন মানুষ উপকৃত হয়। শতাংশ শুনায় বেশি ৩০ শতাংশ। আসলে সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার। এই কয়েক হাজার মানুষ কে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষগুলোকে সংক্ষুব্ধ করা হচ্ছে। আমার বাবা তার সন্তানের চাকরী না পাওয়াকে যদি তার পাশের বাসার একজন মুক্তিযুদ্ধার সন্তান কিন্তু তার ছেলের সমকক্ষ নয়, এরকম ছেলের কাছে তার ছেলেকে পরাজিত হতে দেখে, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সংক্ষুব্ধ হবেন। সবাই তো একেবারে হাই লেভেলের শিক্ষিত না।

আমার ছেলে যোগ্য হওয়ার পরও চাকরী পায় না। এই মুখোমুখি করে দেওয়াই শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। মুক্তিযোদ্ধার নাতি নাতনি কেন চাকরী পায়? আমার মুক্তিযুদ্ধের মনস্তত্বতা কি? আমি মুক্তিযুদ্ধ করছিলাম কেন? মুক্তিযুদ্ধ তো আমি করেছিলাম বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ’৭১ এর আওয়ামীলীগের এজেন্ডা ছিলো পূর্ব পাকিস্তান-পশ্চিম পাকিস্তান এর মধ্যে যে বৈষম্য ছিলো, তার বিরুদ্ধে। আর সেই বৈষম্যটি এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান থাকলে এটা কোন পক্ষের জন্যই ভালো হয় না। এতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের খেলতে সুবিধা হবে।

পরিচিতি : সাবেক সদস্য, (চাকসু) মতামত গ্রহণ : মো.এনামুল হক এনা/ সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত