প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবার সুবিধা নিতে টেকনাফ থানায় পোষ্টিংয়ে তদবির বাবুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনাফ মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে যোগদান করতে মোটা অংকের মিশন নিয়ে নানা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদলের সাবেক ক্যাডার বাবুল আজাদ। অভিযোগ ওঠেছে ২৫ লাখ টাকার মিশন নিয়ে টেকনাফে থানায় যোগদানের জন্য কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় এ পুলিশ অফিসার শ্বাস-রুদ্ধভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে টেকনাফ থানায় তার যোগদান নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠছে।

স্থানীয়দের মতে, একজন তদন্ত ওসির যোগদান নিয়ে কেন এত আলোচনা সমালোচনা তা কেউ সমাধান খুঁজে পাচ্ছেনা। সূত্র মতে, বাবুলের শৈশব জীবন কাটে উখিয়া-টেকনাফে। সেই হিসেবে তার বিষদ বিচরণ রয়েছে দুই উপজেলায়।

পাশাপাশি তার শৈশব জীবনের অনেক বন্ধু বর্তমানে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি। মূলত তার টেকনাফ থানায় যোগাদানের পিছনে অর্থ যোগান দিচ্ছে বন্ধু মহলের ইয়াবা সিন্ডিকেট বলে লোকেমুখে শুনা যাচ্ছে।

এছাড়া এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বাবুলকে টেনাফ থানায় যোগদান করাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। যে কারনে বাবুল আজাদের টেকনাফ থানায় যোগদান নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেনের সততা ও দূরদর্শিতার কাছে আটকা পড়ছে নানা ভাবে বির্তকিত ও সমালোচিত পুলিশ অফিসারদের পোষ্টিং। ফলে বর্তমানে অনেকটা বির্তকের উর্ধে ওঠে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

সূত্রটি আরো জানায়, বর্তমানে পুলিশ সুপার পোষ্টিংয়ের পূর্বে নিজস্ব লোকজন দিয়ে স্ব-স্ব অফিসারের এলাকায় জরিপ চালায়। কে কি করত, পারিবারিক অবস্থা কি, যেই জেলা থেকে এসেছে সেই জেলায় উক্ত অফিসারের কার্যক্রম ও গ্রহণ যোগ্যতা কেমন ইত্যাদি। যে কারনে বাবুলের মত অপকর্মকারিরা আটকা পড়েছে এই জালে এমনটি জানায় উক্ত সূত্রটি।

এদিকে বাবুল আজাদের দম্ভোক্তি পুলিশ সুপার কেন স্বয়ং আইজিপিও তার টেকনাফ থানার পোর্ষ্টিং আটকাতে পারবে না। বাবুলের মতে, ইন্সপেক্টর পোষ্টিং দেয়ার ক্ষমতা এসপি’র নাই। সুতারাং সময়ে কথা বলবে বলে হুমকি সরুপ কথা বলেন বাবুল আজাদ।

জানা যায়, বাবুল আজাদের বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া গ্রামে। তিনি একসময় ঘুমধুম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন। শুধু এতেই শেষ নয়, জেলা বিএনপির বেশকিছু নেতাদের সাথেও তার এখনো দহরম-মহরম গভীর সখ্যতা রয়েছে। যা নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন পুলিশ অফিসার বাবুল আজাদ।

রোববার সন্ধ্যায় বাবুল আজাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে অনেকটা আনন্দের সাথে বলেন-আমি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। বিএনপির সভাপতি হলেও সমস্যা কি। টেকনাফে পোষ্টিং নেয়ার বিষয়ে বাবুল আজাদ আরো বলেন, আমি চেষ্টা করছি সেখানে যাওয়ার জন্য কিন্তু কোন টাকা নিয়ে তদবির করছি না।

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্যে না দিয়ে বলেন-আপনি (সাংবাদিক) যা পারেন লিখেন তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।

তবে টেকনাফ ও জেলার কয়েক জন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়, পোষ্টিং হওয়ার আগেই যদি এত আলোচনায় আসে তাহলে পোষ্টিং হলে পুলিশের সুনাম ডুবাবে। কারণ টেকনাফের সিংহভাগ মানুষ জানে বাবুল আজাদ টেকনাফ ওসি তদন্ত হিসেবে যাচ্ছে।

সুতারাং একজন তদন্ত ওসি নিয়ে এত সমালোচনা হওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নজরে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত