Skip to main content

আদালতের পরিবর্তন চান আসিফার বাবা

  আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারতের কাশ্মীরের কাটোয়ায় মন্দিরে গণধর্ষণ এবং হত্যার শিকার হওয়া শিশুকন্যা আসিফার ধর্ষণ এবং হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়েছে সোমবার। প্রথম দিনেই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জম্মু কাশ্মীর সরকারকে জানিয়েছেন, আসিফার বাবা এই মামলাটি চ-িগড়ে সরিয়ে নেবার আবেদন জানিয়েছেন। নিহত আসিফার আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং জানিয়েছেন, জম্মু এবং কাশ্মীরের পরিবেশ সুষ্ঠ বিচারকাজের উপযোগী নয়। তাই এই মামলা রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ স্বচ্ছ বিচারের উপযোগী নয়। এই এই স্থানটিতে চরম মেরুকরন রয়েছে।’ সুপ্রিমকোট পুলিশর্কে আসিফার পরিবার এবং তার আইনি পরামর্শকদের নিরাপত্তা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে সোমবার কাটোয়া জেলা আদালতে আসিফাকে অপহরণ, নোশা করানো, ক্রমাগত গণধর্ষণ এবং হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। আত্বসমর্পণের পর তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আত্বসমর্পিত ব্যাক্তিরা নিজেদের নির্দোষ দাবী করেছেন এবং ‘নারকো টেস্ট’ এর আবেদন জানিয়েছে। আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চার্জশীটের কপি সরবারহ করতে রাজ্য অপরাধ বিভাগকে নির্দেশ দেন। জেলা ও দায়রা জজ সঞ্জয় গুপ্ত আগামী ২৮ এপ্রিলের আগেই প্রয়োজনীয় নথি সরবারহের নির্দেশ প্রদান করেন। এ দিনই পরবর্তী শুনানীর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। শুনানির পর একজন অভিযুক্ত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নারকো টেস্টের পরই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ৭ জন আদালতে আত্বসমার্পণ তরেছে। আরেকজন অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায় তার আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছে। যার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। শিশু গণধর্ষণের ব্যাপারে পুরো ভারত যখন উত্তাল তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরবতার কঠোর সমালোচনা করে টুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, নিজেদের কন্যাদের নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলতেই হবে। টুইটটিতে তিনি লেখেন, ‘২০১৬ সালে মোট ১৯ হাজার ৬৭৫ জন সংখ্যালঘু শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এটি লজ্জার পরিসংখ্যান। প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই এই মামলাগুলোকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে দোষিদের শাস্তি দিতে হবে। যদি তিনি আমাদের কন্যাদের সুবিচার প্রাপ্তির বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে চান।’ গত সপ্তাহেই গণধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেন রাহুল। বৃহষ্পতিবার ইন্ডিয়া গেটে একটি মোমবাতি মিছিলেরও নেতৃত্ব দেন রাহুল। পরবর্তীতে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। কাটোয়া আর উন্নাও ধর্ষণের ঘটনার সুবিচার চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন ৪৯ জন সাবেক আমলা। চিঠিটিতে তারা লেখেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে এখনই আমরা সবথেকে অন্ধকার সময় পারি দিচ্ছি। এবং এই ব্যাপারে আমাদের সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া দূর্বল এবং অপর্যাপ্ত। দেশের এই সন্ধিক্ষণে আমরা গুহার অন্য প্রান্তে কোন আলো দেখতে পাচ্ছিনা এবং আমাদের মাথা লজ্জায় নিচু হয়ে গেছে।’ সেই চিঠিতে সাবেক আমলারা বর্তমান আমলাদের নীতিবোধের সাথে নিজেদের কর্তব্য পালনে অনুরোধ জানান। - ইয়ন নিউজ

অন্যান্য সংবাদ