প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্ষাতকারে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকু
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি চরম ঝুঁকিপূর্ণ

মাছুম বিল্লাহ : প্রতিবেশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সাবেক বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বেশি দামে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে আমাদের কোন লাভ হচ্ছে না। এতে সমস্যার সমাধানের চেয়ে আরও বাড়ছে।

টেলিভিশন নিউজ এজেন্সি (টিভিএনএ) কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সাবেক এই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সার্ক গ্রিড করার জন্য। সেখানে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে ছিল, নেপাল, ভুটান ও আসামের প্রচুর সাইড্রো ক্যাপাসিটি আছে। সেখান থেকে উৎপাদন করে সবাই ভাগ করে নেব। সেটা হয়নি। এখন ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এতে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। ভারত নিজেরাই বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্যে আছে। তাদের ১ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে গেলে ভারত আমাদের বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। তখন আমাদের চাহিদার কি হবে?’

‘আমাদের শুধু বর্তমান নিয়ে ভাবলে চলবে না। ভারত ইস্টার্ন গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে। এখন পশ্চিমবঙ্গে ও ত্রিপুরায় বিদ্যুতের চাহিদা কম আছে। কিন্তু পরে যদি তাদের চাহিদা বাড়ে তাহলে কি হবে’- প্রশ্ন রাখেন সাবেক এই বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ না এনে যদি আমরা পাওয়ার প্লান্ট করতাম। তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়তো না। কিন্তু সরকারতো খুব একটা পাওয়ার প্লান্ট করেনি। সবই বেসরকারি কোম্পানিকে দিয়েছে। সরকারি পাওয়ার প্লান্ট করলে সাশ্রয় হয়। সরকার তো লাভ করে বিক্রি করে না। কিন্তু যারা বে সরকারি কোম্পানি তারা তো লাভ করে। এখন যদি বিদ্যুতের দামের উপর ১০ বা ১৫ পারসেন্ট যোগ করে তাহলে তো সেটা বাড়লো। সেটা তো জনগনকে দিতে হচ্ছে। আর যদি সরকার করতো তাহলে তো বাড়তো না। অতিরিক্ত ১০, ২০ বা ৩০ পারসেন্ট দিতে হতো না। ভারত থেকে তো আমাদের লাভ দিয়েই কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কেন সরকার উৎপাদন করতে পারছেনা। এখানে অনেক হিসেব-নিকেশ আছে। আমার কাছে মনে হয়, সরকারের লোকজন মনে করছে, বিদ্যুতে আসছে, কত খাবি খা, তারপরে যা হয় হবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা পাঁচ বছরে মাত্র একবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিলাম। আর এই সরকারের সময় ৭ বার বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। কিছুদিন পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়ে।

এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুত উৎপাদনে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়কে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সাবেক এই বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি দিয়ে জাপান চলছে। এটা ভাল। তবে আমাদের এখানে আমদানিতে কারা জড়িত। কিভাবে কাজে লাগানো হবে তা কিন্তু কেউ জানে না। এটা নিয়েই আমার প্রশ্ন। এই যে, এনএলজি আমদানি করা হচ্ছে। এটার মধ্যে কোন স্বচ্ছতা নেই। যেখানে স্বচ্ছতা না থাকে সেখানে অন্ধকার দিক থাকে। সেই অন্ধকারে কি হচ্ছে সেটা আমরা কিন্তু জানি না। এনএলজি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, কাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে সেটাই আমরা জানিনা। এটা হলে কি হবে, হায় হায় কোম্পানী হয়ে যাবে কিনা, এটা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত