প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্পের কারণে যমুনা সহ অনেক জলাশয়ের পানি দূষিত হচ্ছে

সাজিয়া আক্তার: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি অ্যানায়েতপুর ও শাহাজাতপুর তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ হলেও তাঁতশিল্পের সহযোগি প্রতিষ্ঠান সুতা প্রসেস মিলের বর্জের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপদগ্রস্থ হয়ে পরেছে। এসব উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে এবং ওয়াবদা খালে প্রসেস মিলের বর্জ্য ফেলার কারণে তা এখন ব্যবহারের অনুপযোগি। এসব পানি এখন মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বেলকুচি এবং এনায়েতপুর পরিচিত তাঁত নির্ভর এলাকা হিসেবে। সিরাজগঞ্জের এই দুই উপজেলার ঘরে ঘরে তাঁত আর সুতার কারখানা। রং এবং সুতার জন্য প্রচুর পানি দরকার, তাই নদী ও জলাশয় ঘেঁষে বেশিরভাগ কারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানাগুলোর রাসায়নিক আর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সরাসরি খাল, বিল ও জলাশয়ে। পরিশোধন ছাড়াই ফেলা লাখ লাখ লিটার বর্জ্য দূষিত করছে পরিবেশ।

স্থানীয় এলাকাবাসিরা জানান, বর্ষার সময় এইপানিগুলো যখন চারদিক ছড়িয়ে পরে তখন মানুষের বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে। তারপর এই পানিতে অনেক দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই পানি এতটাই দূষিত যে, মানুষ দুরে থাক পশুপাখি ও নামতে ভয় পায়। এই পানিতে কোনো মাছ থাকে না, এমকি ছাগল, ভেড়া বা অন্য যেকোনো পশু পাখি ও যদি পানি খায় তাহলে তা মারা যায়।

অভিযোগ রয়েছে এখানকার অধিকাংশ প্রসেসিংমিল গুলোতে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
এলাকাবাসী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর এখানে ঠিকমত কাজ করে না, কাজ না করার কারণে আমাদের এখানের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরা সবাই এখানে এসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে।

সল্পপুঁজির কারখানার মালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল শোষণাগার তৈরি করা সম্ভব নয় বলে জানালেন প্রসেসিংমিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

সিরাজগঞ্জের প্রসেস মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদর আলী মন্ডল বলেন, যমুনার পাড়ে অনেক জায়গা আছে, যদি আমাদেরকে এই জায়গাই সহযোগিতা করে তাহলে আমরা পরিবেশমত চালাতে পারবো। আমরা ইচ্ছা করলেও অর্থের কারণে পরিবেশ মত চালাতে পারছি না।

বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় পরিচালক মো.আশরাফুজ্জামান বলেন, আমার জানামতে এখানে কারখানা গুলোর মধ্যে দু একটার হয়তোবা লাইসেন্স আছে, বাকিগুলোর কোনোটার লাইসেন্স নেই। এবং তারাও নবায়ন পরিবেশের শর্ত মানছে না বলেই নবায়ন হচ্ছে না। এটা একটি সামষ্টিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করি।

তাঁতশিল্পকে পরিবেশ বান্ধব করতে সব ধরণের সহায়তা করতে চায় উপজেলা প্রশাসন।

সিরাজগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওলিউজ্জামান বলেন, যদি পরিবেশ অধিদপ্তর উদ্যোগী হয়ে আমাদেরকে সাথে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলেই কেবল এটি রোধ করা সম্ভব।
সূত্র: যমুনা টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত