প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ন্যাটোকে আর ভয় পায় না সিরিয়া : আসাদ

রাশিদ রিয়াজ : সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার দেশে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের হামলা প্রতিরোধে রুশ অস্ত্রের সুনাম করে বলেছেন, এধরনের অস্ত্রের ফলে ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ন্যাটোকে আর ভয় পায় না সিরিয়ার মানুষ। রুশ সাংসদদের সঙ্গে এক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদের এধরনের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন করেছে স্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেছেন, এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমায় পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি অস্ত্রের গুণগান করা হলেও এখন দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার অস্ত্রই সেরা। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবেও অভিহিত করেন প্রেসিডেন্ট আসাদ।

রাশিয়ার একজন সাংসদ সের্গেই ঝেলেঝনস্কি যিনি প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তিনি জানান, দামাস্কাস রুশ অস্ত্রের প্রশংসা করেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই হামলাকে কার্যত পর্যুদস্ত করেছে। এবং এসব রুশ অস্ত্র ছিল ৭০ দশকে নির্মিত। প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনকে সম্মিলিতভাবেই মোকাবেলা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রুশ সাংসদ জানান, ৯০ দশকে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রে রুশ অস্ত্রকে সেকেলে বলেই দেখানো হত, কিন্তু এখন আমরা টের পাচ্ছি কোন দেশের অস্ত্র আসলে সেকেলে।

ওই বৈঠকে উপস্থিত আরেক রুশ সাংসদ সাবলিন বলেন, সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সফলভাবেই মোকাবেলা করেছে বলেও প্রেসিডেন্ট আসাদ মন্তব্য করেন। আসাদ বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো যতই বিভিন্ন ধরনের এজেন্ডা চাপিয়ে দিক সিরিয়া তার লক্ষ্যে অটল থাকবে। গত শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও দামাস্কাস ও আলেপ্পোর রাস্তায় মানুষ আসাদ সরকারের পক্ষে মিছিলে নামে ও মার্কিন ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। রুশ প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হলেও এর ৭১টি আকাশেই বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে পেন্টাগন তা অস্বীকার করে বলেছে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

রুশ সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে লেবাননের আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, সিরিয়ার কাছে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। পাশ্চাত্যের হামলার কারণে সিরিয়ার জনগণের মধ্যে ঐক্য ও দৃঢ়তা আরও বাড়বে। সিরিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি বিদ্বেষের কারণেই আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি জানান।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ