প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈশাখ উদযাপন থেকে কাজী নজরুলকে বাদ দেওয়া উচিত নয়

খিলখিল কাজী : নববর্ষ বাংলা সালের একটি ঐতিহ্যময় দিন। চিরন্তনই বাংলার একটি ঐতিহ্য বহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবে এখনকার বৈশাখ আর আগের বৈশাখ অনেক তফাৎ। এখন একটা ফ্যাশনের মত হয়ে গেছে, নতুন জামা কাপড় পরে আমরা রমনাতে চলে যাব। উৎসবের মত ঠিকই আছে। তবে এই যে মিলনমেলা হচ্ছে, এই মিলনমেলা যদি সারা বছরই হতো! আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করি ঠিকই, কিন্তু অন্তত এই একটা দিন যদি যার যার অবস্থানে থেকে গরিবদের খাওয়ানো কিংবা পথশিশু এবং অসহায় যারা আছে, তাদেরকে নিয়ে ভালো একটি আয়োজন করতাম, তাহলে ভালো হত। হাসপাতালে অনেক গরিব, বৃদ্ধ এবং অনেক পথশিশু রা থাকে। আমরা যদি দল বেধে গিয়ে তাদেরকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই, তাদের জন্য হাতে কিছু নিয়ে গেলাম, এগুলো করলে একতা টা বজায় থাকে। একটা দিনের জন্য হৈচৈ করলাম অথচ সারা বছর ভুলে গেলাম, এটা তো হলো না।

আগে পহেলা বৈশাখ আসলে “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” এই গান টা গাওয়া হতো। এখন তো অনেক গান বন্ধ হয়ে গেছে। কবি নজরুলের গান টা বৈশাখে গাওয়া হচ্ছে না। কেন? কবি নজরুল কি বাঙালী নয় ? আমি তো বলব, শ্রেষ্ট বাঙালী যদি আমরা কাউকে বলতে পারি, তিনি হচ্ছেন কাজী নজরুল ইসলাম। সাম্যের কথা বলেছেন, সব ধর্মের মানুষ কে নিয়ে একসাথে চলতে শিখিয়েছেন, তিনি হচ্ছেন কাজী নজরুল ইসলাম। সেইখান টা থেকে আমরা সরে এসেছি। কাজী নজরুল কে বাদ দিয়ে বৈশাখ উদযাপন করতে চাই, এটা কিন্তু ঠিক নয়। তার অনুপ্রেরণামুলক গান, কবিতা গুলো আমাদের চলার পথে অনেকটা অবদান রাখে। বৈশাখ হচ্ছে একটি মিলন মেলা, সবাইকে নিয়েই আমাদের কাজ টা করতে হবে।

পান্তা ইলিশ পহেলা বৈশাখের কোন ঐতিহ্য নয়, এগুলো নতুন করে বানানো। বাঙালী সংস্কৃতি থেকে আমাদের শহরের নতুন প্রজন্ম অনেকটাই দূরে। পুরাতন কে ফেলে নতুন কে লালন করা, এটা হলো নববর্ষ। তাই বলে আমরা তো আমাদের ঐতিহ্য কে ভুলে যেতে পারি না। অনেকেই আবার ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে, বাংলার ঐতিহ্য যে একেবারেই মুছে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়। নানা উৎসবের আমেজে বাংলাদেশ চলছে। একেকটা উৎসব একেক টা রঙে এখন সেজেছে। নববর্ষে আমরা যে নতুন সাজে সাজি, সারা বছর যে এমন ভাবে নিজেদের সাজিয়ে রাখব তা কিন্তু নয়। তবে সারা বছরেরই একটা পরিকল্পনার ফসল কিন্তু এই একটি দিন। নানান ব্যস্থতার মাঝে মানুষের পক্ষে রোজ পুরাতন সংস্কৃতি চর্চা করা সম্ভব নয়, তবে ভুলে গেলে চলবে না।

পরিচিতি : কাজী নজরুল ইসলামের নাতনী ও সংগীত শিল্পী/মতামত গ্রহণ : মাহবুবুল ইসলাম/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত