প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট : বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৫ আসন। কিন্তু আগামী একাদশ নির্বাচন নিয়ে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে চলছে তীব্র কোন্দল। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দু’দলেই একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তবে বৃহৎ এ দু’দল থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন? পুরাতন নাকি নতুন মুখ আসবে- তা নিয়েও হচ্ছে বিস্তর আলোচনা। এ আসন থেকে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মো. ইউনুস (আওয়ামী লীগ), দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল ইসলাম (জাতীয় লীগ), তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মো. ইউনুস (স্বতন্ত্র), চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মো. ইউনুস (জাতীয় পার্টি), পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (আওয়ামী লীগ), ষষ্ঠ (১৫ই ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মজিবুর রহমান মজু (বিএনপি), সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (আওয়ামী লীগ), অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মো. ইউনুস (বিএনপি), নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (আওয়ামী লীগ) এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (আওয়ামী লীগ) বিজয়ী হন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, আইন বিচার সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, স্বাধীনতার পর বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থেকে ৪ বার এমপি হয়েছি। এ সময়ে সাবেক আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালে এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন ও অসংখ্য স্কুল-কলেজ করে শিক্ষা সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়া এলাকাকে আলোকিত করেছি।

এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ তালিকায় ১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন এবং বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান। তবে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আরও রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযোদ্ধা ’৭১-এর আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল হাসেম খান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোনার বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ। সম্ভাব্য প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন স্বপন বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ছাত্রলীগ থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সুখে-দুঃখে রয়েছি। নেতাকর্মীরা চায় আমি আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাই এবং আমিও প্রস্তুত রয়েছি। তবে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য কাজ করবো। ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী বলেন, দলীয় মনোনয়ন চাইব, দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্য কাজ করে যাব। অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন, দলীয় মনোনয়ন চাইব, দলীয় স্বার্থে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তই নৌকার প্রতীককে বিজয়ের জন্য কাজ করে যাব।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগ এডভোকেট হাসেম খানকে সভাপতি ও সাজ্জাদ হোসেন স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক করে বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির অনুমোদন দেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। পরে এ কমিটি বাতিল করে পুনরায় আখলাক হায়দার চেয়ারম্যানকে সভাপতি ও এডভোকেট রেজাউল করিম খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি করার পরেই বর্ধিত সভায় স্থানীয় এমপি এডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর উপস্থিতিতে দুই কমিটি এবং সাধারণ কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমপিকে নিয়ে এ কমিটি মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। তবে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও অনেক সিনিয়র ত্যাগী নেতা কমিটিতে সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এই আসনে অপরিচিত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ায় বার বার পরাজিত হতে হয়েছে। পরাজিত প্রার্থী পরবর্তীতে আর কর্মীদের খবর রাখেনি, এলাকায়ও আসেননি। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ (১৫ই ফেব্রুয়ারি) মজিবুর রহমান মজু বিজয়ী হন। কিন্তু এরপর আজ পর্যন্ত এলাকার শ’ শ’ কর্মী মামলায় জেল খাটলেও কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি তিনি। এছাড়া ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মো. ইউনুস বিএনপি’র টিকিটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতার স্বাদ পেলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ৯ম সংসদ নির্বাচনে এলাকায় অপরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এএসএম আলাউদ্দিন অংশগ্রহণ করেও পরাজিত হন। তিনিও পরাজিত হয়ে এলাকার জনগণ ও কর্মীদের খবর রাখেননি। এ আসনে বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থক থাকলেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে আসনটি হারাতে হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সমন্বয়ক শওকত মাহমুদ, বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি অধ্যাপক মো. ইউনুস, কৃষক দল কেন্দ্রীয় নেতা এএসএম আলাউদ্দিন। এ ব্যাপারে শওকত মাহমুদ বলেন, ২০১০ সালে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া নির্বাচনী এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করতে আমাকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেন। এরপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা, মতবিনিময় করে কমিটির মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করে ঢেলে সাজিয়ে যাচ্ছি। ৮ বছর ধরে সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় দিবসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বুড়িচং উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকে বিজয়ী করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

এই আসনে জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড নাই বললেই চলে। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সমন্বয়ক হাজী তাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান ও লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন উপজেলায় এসে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ফুল দিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের নীরবে সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত