প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকা অনস্বীকার্য : অর্থমন্ত্রী

ফাহিম ফয়সাল : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সার্বিক দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প খুব একটা কার্যকর না হলেও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

বৃহস্পতিবার পিকেএসএফ মিলনায়তনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান ও প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ রচিত গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণায় লেখকের অবদানের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ১৯৭৭ সালে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষরা তাদের মোট সময়ের ৬০ শতাংশ ব্যয় করেন বিভিন্ন উৎপাদনমূখী কর্মকান্ডে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

তিনি আরো বলেন, প্রায় চল্লিশ বছরের বিভিন্ন লেখার এই সঙ্কলনের শুরুর দিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দাতা সংস্থাগুলির অযাচিত হস্তক্ষেপের যেমন সমালোচনা করা হয়েছে, তেমনি ২০০৯-পরবর্তী সময়ে এসব সংস্থাগুলি প্রকৃত অর্থেই যে উন্নয়ন সহযোগীদের মতো আচরণ করছে, সেটিও উল্লেখ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্ন পর্যায়কে কেন্দ্র করে সুলিখিত এই প্রবন্ধগুলি কালের সাক্ষী। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মরত সকলের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।

বিআইবিএম মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন, অসাম্য দূরীকরণ, সকলের জন্য মানবমর্যাদা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পৃথিবীতে সাম্প্রতিককালে উচ্চারিত হলেও, ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ এই দর্শনগুলি সেই সত্তরের দশক থেকেই বলে আসছেন। দেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ক পড়াশোনা হয়, সেখানে এই বইটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

অধ্যাপক নাজমা বেগম বলেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ড. আহমদ তার লেখনীর মাধ্যমে আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগেই বলেছেন। দুরদৃষ্টিসম্পন্ন এইসব লেখায় তিনি যেসব পরামর্শ দিয়েছেন, তা দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রোপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী।

গ্রামীণ অর্থনীতি বিষয়ে লেখকের পাণ্ডিত্য প্রশ্নাতীত মন্তব্য করে ড. কাজী মেসবাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যতো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার সবগুলোই ড. আহমদ অত্যন্ত সুচারূভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উন্নয়ন গবেষক, অর্থনীতিবিদ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পিকেএসএফ-এর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত