প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতি, আইনের কাঁটা আর সিইসির উদ্দেশ্য

দীপক চৌধুরী : রাজনীতিতে ব্যক্তিজীবনের কিছু নিয়ম-নীতি মানতে হয়। জনগণকে একমাত্র আপনজন, আশ্রয় ও বাঁচার প্রেরণা বলে বিশ্বাস করতে হয়। তা না হলে রাজনীতি করা যায় না, এতে স্থায়ীও হওয়া যায় না। আমাদের রাজনীতিতে অতীতে যাঁরা দেশ চালিয়েছেন তাঁরা কিন্তু জনগণের সকল শক্তি হাতের মুঠোয় ঢুকিয়ে নিজের অস্তিত্বকে সম্প্রসারিত করেছেন। ভোট শিকার করতে তাঁরা সাংঘাতিক দক্ষ। নির্বাচন এলে তারা বিড়ালের অভিনয় রপ্ত করেন; নির্বাচন শেষে জয়লাভের পর তাঁদের কণ্ঠে বাঘের মতো হুঙ্কার শুনতে পাই আমরা। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যুক্ত। শুরুতেই বলছিলাম, রাজনীতিতে ব্যক্তিজীবনের প্রয়োজনীয়তা, নিয়ম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার শাসনামল দেখেছি।

জিয়ার কা- মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা ও নৃশংসতা, রাজনীতিকে “ডিফিকাল্ট” ও দুর্নীতিগ্রস্ত করার বহু ব্যাখ্যা-বিবরণ শুনেছি। এরশাদের স্বৈরশাসন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস এক ভয়ংকর রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। বাকি ষোল কলা পূর্ণ হলো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতে। যদি ভুল না করে থাকি, সেনা-উপপ্রধান হিসেবে মইনুল রোডের সেই বাড়িটি উঠেছিলো সকল ষড়যন্ত্রের নিরাপদ আস্তানা। ২০১০ সালে কী দেখলাম? খালেদা জিয়ার ব্যক্তিজীবনের কিছু কীর্তি। ৭৭ দাস-দাসি বা গৃহপরিচারক-গৃহপরিচারিকা ছিল এ বাড়িতে। তারা খালেদা জিয়ার আদেশ-নির্দেশের অপক্ষায় থাকতো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছিল ১৭টি। ২১টি ঘর ছিল বাড়িতে। গরিব দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বাড়িতে আর কি কি দ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল উল্লেখ করতে চাই না। এরশাদের জঘন্য ইতিহাসতো অনেকেই জানেন।

মনে থাকা দরকার, আমরা যে সমাজে বাস করি, তার আষ্টেপৃষ্ঠে কিছু ধ্যানধারণা জড়িয়ে আছে। যাঁরা রাজনীতি করেন, ভোটে জিতে নেতা হন, দল চালান, দলের “লিডার” বনেন তাঁদের দায়িত্ব তো সবচেয়ে বেশি। তাই নয়? বিপুল সংখ্যক মানুষের দৃষ্টিতে তাঁরা তো আদর্শ। কিন্তু জনগণ হোচট খায়। জারণ, তারা দেখে আমাদের সমাজে বহু জরুরি আইনেরই অপব্যবহার ঘটে থাকে। কোনটি জরুরি বিষয় তা আমরা বুঝতে চাই না। যাঁরা রাষ্ট্র চালান, তারা? আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গণমানুষের উদ্দেশে যে ধরনের কথা বলবার সুযোগ পেয়েছিলেন, এর সৎব্যবহার তিনি করতে পারেননি। তাঁর ব্যক্তিগত দু:খের অনেক কথা বলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের অনেক সংবেদনশীল বিষয়কে হাঁড়িতে ভরে হাটে ভেঙ্গেছেন। কার লাভ হয়েছে? জনগণের পক্ষের উচ্চারণ কী সেখানে ছিল?

আর এখন কয়েকমাস ধরে তাঁর দলের নেতাদের বক্তৃতায় খালেদার অপরাধ ঢাকার এক প্রাণান্তকর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কই, সুপরামর্শ কোথায়? কেউ বলছে না, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অতীতের রাজনীতির ছবিটা বদলাতে হবে। তাঁকে জানি-চিনি; প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এখন জেলে। তাই খারাপতো মানুষের লাগতেই পারে? মনে রাখা দরকার, সবকিছুকে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। উদীয়মান বাংলাদেশের আশা আর প্রাপ্তির ব্যালান্সশিট সামনে, আসছে ডিসেম্বরে। এর জন্য প্রয়োজন নির্বাচনের পরীক্ষা। দরকার নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, যোগ্যতা।

কিন্তু অবাক গেলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শোনে। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, ” আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হওয়া উচিত। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। ইসির আরো পাঁচ সদস্য আছেন। সবাই মিলেই এটা সিদ্ধান্ত নেবেন।” আমরা জানি, বিএনপি চাইছে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা সদস্যদের ভোটে নামানো হোক। আর সিইসি বললেন, সেনা মোতায়েন দরকার। তিনি কী না, সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতা ইসির আছে কী নেই! জবাব হচ্ছে নেই। একবার বললেন, জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক; এখন বলছেন, তিনিও সেনাবাহিনী মেতায়েন চান! আসলে সিইসির উদ্দেশ্য কী?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত