প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই নেতার আধিপত্যে ঢাকা মহানগর আ. লীগ

পাভেল হায়দার চৌধুরী : দেশের রাজনীতির সূতিকাগার হিসাবে পরিচিত ঢাকা মহানগর। রাজধানীতে সব দলই তাদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে চায়। আওয়ামী লীগও এর বাইরে নয়। কিন্তু ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণের রাজনীতিতে বর্তমানে কোনও শৃঙ্খলা নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ চলছে সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগ চলছে শাহে আলম মুরাদের আধিপত্যে। ফলে দুটি ইউনিটই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এই অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি ইউনিটের বিশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সভা সূত্র জানায়, নাছিম বলেছেন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান দুই নেতাই নিজ নিজ বলয়ের লোকজনকে নেতা বানিয়েছেন। নগরের ত্যাগী নেতারা তাদের কারণে কোণঠাসা হয়ে আছেন। এই দুজনের বলয়ের লোকরাই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আধিপত্য বিস্তার করছে। তাদের বলয়ের বাইরের লোকজন কোনোভাবে জায়গা পাচ্ছে না। ফলে তারাও ঘরে বসে আছেন, কর্মসূচিতে যোগ দেন না।

সূত্র জানায়, এরপর সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য নেতারা নাছিমের বক্তব্য সমর্থন করে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সভাপতিত্ব করা দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে। বিষয়টি শনিবার (৩১ মার্চ) দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় তুলে ধরতে অন্য নেতারা মত দেন।
সভা সূত্র জানায়, সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য নেতারা দাবি করেন, সাদেক খান ও মুরাদের কারণে দুটি ইউনিটের সভাপতি আবুল হাসনাত ও এ কে এম রহমতউল্যাহও নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। দুই সভাপতিকে কোনও অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা ছাড়া অন্য কোনও কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘তাদের (উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি) দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই জন নেতা বহুবার কথা বলতে ডেকেছেন। কিন্তু তারা ডাকে সাড়া দেননি।’
একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তরের দায়্ত্বিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা ফারুক খান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানাবেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় দলের কর্মকৌশল, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড— এসব বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত বলেন, ‘সমস্যা অনেক। এর চেয়ে বেশি কিছু বলবো না।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকা এক কেন্দ্রীয় নেতা  বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের দুই ইউনিটের দুই সাধারণ সম্পাদকের নামে নানা অভিযোগ মহানগরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা হরহামেশাই করে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছি, কিন্তু আমার সঙ্গেই তাদের কোনও পরামর্শ হয় না। এমনকি এই দুটি ইউনিটের কোনও অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণও জানানো হয় না।’ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে নগরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের বিষয়ে অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন গত বছর ২৬ নভেম্বর দক্ষিণের এক বৈঠকে ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছিলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে যোগ্য কোনও লোক নেই। যারা আছেন তাদের দিয়ে নির্বাচন মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত