প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারী ও শিশু নির্যাতন কমছে না কেন?

সাজিয়া আক্তার: সরকারি-বেসরকারি হিসেবে এদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। গবেষণা তথ্য বলছে, গেল বছর প্রায় ১০ হাজার নারী নির্যাতন ঘটেছে। ১০ বছরের নিচে প্রায় পাঁচ ভাগ কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়।
গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যাবহারে স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা আসক্ত হচ্ছে পর্নগ্রাফিতে। এমত অবস্থার পরিবর্তনে কাউন্সেলিংয়ের বিকল্প দেখছেন না বিশ্লেষকরা। সেই সাথে আইনের কঠোর প্রয়োগের কথাও বলছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।

হবিগঞ্জের কিশোরী বিউটির অপরাধ উত্যক্তের প্রতিবাদ করা, এর জেরে প্রথমে ধর্ষণ শেষমেশ এক দল নরপশুর হাতে নির্মম হত্যা।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমন ঘটনার খবর হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে। নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলা চিঠিও লিখছেন কেউ কেউ।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এর জরিপ মতে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালে নারী নির্যাতন বেড়েছে প্রায় ৫৮ভাগ।
ব্র্যাক সংস্থাটি আরো বলছে, গেল বছর নির্যাতনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ৭০০ টি। আর পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ১০ বছরের নিচে কন্যা শিশুদের নির্যাতনের হার ৫ ভাগেরও বেশি।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এক সাথে কাজ করে তাহলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যেসব মামলা হচ্ছে সেগুলোর কার্যক্রম শেষ করতে কেন বেশি সময় লাগছে এই বিষয়গুলোও এই মন্ত্রণালয়ে গুলোকে দেখতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের কারণ খুঁজতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ’ বিভাগের গবেষক দলের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রধান ড. সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ বলেন, ঢাকার বাহিরে ৫০টি স্কুলে এই মুহূর্তে আমাদের একটা ফলিত গবেষণা চলছে, এখানে আমরা ১১ বছর বয়সেই বেশিরভাগ ছেলে শিক্ষার্থী পর্নগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে যায়। একান্তে তারা পর্নগ্রাফি দেখে। যে ছেলেটির বয়স এখন ১১ থেকে ১২ তার বয়স যখন ১৭ কিংবা ১৮ হবে তখন যে বড় ধরনের অপরাধ করবে।

তিনি আরো বলেন, বলেন, ঔ এলাকা গুলোতে আমরা এটাও দেখেছি যে, একটা ধর্মীয় অপপ্রচার আছে, যেখানে সমস্ত নারীরা বোরকা পরে না কিংবা যে সমস্ত নারীরা বোরকা পরেও জন সমাগম স্থানে আসে তাদের ক্ষেত্রেও ছেলেরা মনে করছে নারীদের প্রতি যে কোনো ধরনের টিস কিংবা খারাপ কাজ করা জায়েজ।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, যদি নৈতিকতা মূলবোধকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারি তাহলে সেক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত হবে এবং এ ধরনের ঘটনা অনেক অংশে হ্রাস পাবে।

উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০ ভাগ নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, সুইডেনে প্রতি চারজনে একজন নির্যাতিত হচ্ছে, আমেরিকায় প্রতি তিনজনে একজন এবং ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একজন ধর্ষিত হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত