প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দাদা আমি ফিরে আসব সবার মাঝে’

}

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীপ্ত সরকার। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্ন করার জন্য ময়মনসিংহ ভালুকায় স্কয়ার ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টেসে আসছিলেন। আগামী ৫ এপ্রিল মাসে ইন্টার্ন শেষ হবে। কিন্তু বিধির লিখন খণ্ডাতে পারলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় ৪ বন্ধুর জীবনে এমন একটি বিভীষিকাময় দিন আসবে কখনও কল্পনা করেননি কেউ। বিগত ২৪ মার্চ রাতে তাদের ভাড়া বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণে জীবন শংকায় সবাই। ঘটনার পরপরই তৌহিদুল ইসলাম তপু নামে একজনের মৃত্যু হয়। তাদের আরেক বন্ধু শাহীন মিয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বুধবার রাতে মারা যায়। বাকি দুই বন্ধু হাফিজ ও দীপ্ত আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তারা এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। তাদেরই একজন দীপ্ত সরকার।

পরিবারের ৭ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ও আদরের সন্তান। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে ছোট সন্তানকে ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। পরিবারের লালিত স্বপ্ন সফল হওয়ার পথেই ছিল দীপ্ত। খুলনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইলে পড়াশোনার শেষ প্রান্তে ছিল। ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি গার্মেন্টেসে ইন্টার্ন করতে এসে দুর্ঘটনায় এখন জীবন মৃত্যুর শংকায় আছেন। যেদিন গ্যাস বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন সেদিন তার বড় ভাই নারায়ণ সরকারকে দীপ্ত বলেছিল, ‘দাদা আমাকে নিয়ে টেনশন করোনা। আমি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবো।’

সেদিন তার দাদা (বড় ভাই) বলেছিলেন তোকে ফিরে আসতেই হবে। তুই হারিয়ে যেতে পারিস না। এমন ভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দীপ্তের মামা সমীরণ বসু। তিনি চোখের পানি ফেলে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ভাগিনার লালিত স্বপ্ন পূরণ হবে কি? সেদিনওতো বলল তার দাদাকে ফিরে আসবে কোন চিন্তা না করার জন্য। আজকে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। চোখ মেলেও থাকাচ্ছেনা। জানিনা তার ভাগ্যে কি লিখা আছে।

তিনি বলেন, ভাগিনা দীপ্তের শরীর ৫৪% দ্বগ্ধ হওয়ার পরও নিহত বন্ধু শাহীনের যেন ভাল চিকিৎসা হয় এবং কার কিছুই হবেনা সেটি বার বার বলছিল অন্যান্য বন্ধুদের কাছে ঢামেকে ভর্তি হওয়ার পর। কিন্তু তার শরীরের ৫৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল সেদিকে তার খেয়ালও ছিলনা। বন্ধুদের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা ছিল সেটা তখনও তার কন্ঠে ও আচরণে বহিঃপ্রকাশ ছিল।

তার ফাইনাল বর্ষে টিউশনি করে টাকা কামিয়ে পড়াশোনা করেছে এমন কথা বলে তিনি বলেন, সে তার মেধার সাক্ষর রেখেছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। হয়ত দারিদ্রতার কষাঘাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল কিন্তু দমিয়ে যায়নি। দীপ্ত আমেরিকা হতে ২০১৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ পেয়েছিল। মাগুরা জেলায় মেধার সাক্ষর রাখায় বৃত্তিও পেয়েছিল।

আজকের তার জীবন সংকটাময় হওয়ায় পরিবারসহ এলাকার সবাই বেদনা আবেগ আপ্লুত। সবাই চায় মুমূর্ষু অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক সবার মাঝে। বিভিন্ন পুঁজা মন্ডপ ও শ্রীমা সারদা আশ্রমেও চলছে তার সুস্থতার জন্য আরাধনা।

ঢামেকে বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সে জানালেন, দীপ্তকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ভর্তির সময় অন্যান্য রোগির চেয়ে মনোবলের দিক দিয়ে অনেকটা প্রাণোজ্জ্বল ছিল। কিন্তু তার শরীরের ৫৪ % বার্ন রয়েছে তাছাড়া তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটাই রোগিকে বাঁচানোটা অনেকটা কষ্ঠসাধ্য। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরও ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের সুস্থ করে তুলতে। তবে দীপ্তসহ দুজনই ক্রিটিক্যাল মুহূর্ত অতিক্রম করছে। সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত