প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা বিলম্বিত

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের প্রথম কৃত্রিম যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর মহাকাশে উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা বিলম্ব হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের অ্যানতোনোভ নাইস বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টার (বাংলাদেশের সময় সকাল ১০-১২টার) মধ্যে একটি কার্গো বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়ের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পরও বিমানটি উড্ডয়নের জন্য সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মেজবাহুজ্জামান গতকাল রাত ৯টায় বলেন, ‘আমরা সুখবরটি পাওয়ার জন্য এখনো অপেক্ষা করছি। আমাদের ধারণা বিমানটি প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। নানা কারণে এর যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘রাতের মধ্যেই এটি রওনা হবে বলে আশা করছি।’

এর আগে গত বুধবার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস এক টুইট বার্তায় জানায়, গতকাল সকালে প্রায় সাড়ে তিন টন ওজনের এই স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে যাত্রা বিরতির পর শুক্রবার (আজ) বিমানটি ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে পৌঁছবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা স্পেস’ জানায়, এই স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে পারে আগামী ২৪ এপ্রিল।

তবে প্রকল্পের পরিচালক গত বুধবার বলেন, ‘২৪ এপ্রিল এটি উৎক্ষেপণ করা হবে কি না, সে বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে পৌঁছনোর পর স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ বিভাগে উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন ৯-এর ইন্টিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরু হবে। এটি উৎক্ষেপণে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসারও অনুমোদনের প্রয়োজন। এরপর স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর তারিখ নির্ধারণ হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী দু-চার দিনের মধ্যেই উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট তারিখ পেয়ে যাব।’

এর আগে স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যেকোনো দিন হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। বিটিআরসি জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এদিকে দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় রাখতে সারা দেশে উৎসব অনুষ্ঠানেরও প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, উৎক্ষেপণের পরদিন রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়েও উৎসবের আয়োজন করা হবে। উৎসবের আয়োজনের জন্য দরপত্র আহ্বানও করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে এসংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। তখন বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট কেনে বাংলাদেশ। এ জন্য খরচ হয় ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এর উৎক্ষেপণ ব্যয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজিপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণকাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত