প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কফিনে নড়ে চড়ে উঠলো লাশ!

সুশান্ত সাহা : মৃত্যুর ৬ ঘন্টা পরে গোসল শেষে কাফনের কাপড় পড়ানো হয়। লাশের জানাজার জন্য খাটিয়ায় করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। এমন সময়ই পাশ থেকে একজনের চিৎকার, লাশের চোখ নড়ছে, তিনি এখনও বেঁচে আছে। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর আবার তার বেঁচে যাওয়ার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সবার মধ্যে সৃষ্টি হয় এক আনন্দ ও উৎকন্ঠা। সবাই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। প্রিয়জন আবার বেঁচে উঠেছে বা উঠবে সেই আশায় প্রায় অর্ধশত লোক মিলে তাকে নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। তবে হাসপাতালে আনার পর তার ইসিজি পরীক্ষার করে ডাক্তার শুনালেন নিরাশার বাণী। ডাক্তাররা জানান, অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও মৃত্যু সনদপত্র বেলা ১টা ৪ মিনিটে তার মৃত্যুর সময় লেখা হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকার উর্দু রোডের ৪৮ নাম্বার বাসায় ব্যবসায়ী হাজী শামীম মালিকের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। উর্দু রোডে “জ্যোৎস্না ভবন” নামের পৈত্রিক মার্কেটের দেখাশোনা করতেন হাজী শামীম মালিক রোমেন্স। তার বাবা মৃত এডভোকেট ফজলুল হক। এক সন্তানের জনক তিনি।

জানা যায়, হাজী শামীম মালিক (৪০) বার্ধক্য আসার আগেই শরীরে বাসা বেঁধেছিলো নানান রোগ। গত ২ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) সহ নানান হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করাচ্ছিলেন তিনি। সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস করানো হতো তাকে। গত মঙ্গলবার রাতে পিজি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করিয়ে ভোর ৫টা নাগাদ সুস্থ ভাবেই বাসায় ফিরেন শামীম। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।

মৃত শামীমের বন্ধু বাবু জানান, শামীমের লাশের জানাজা ও দাফনের ব্যাবস্থা করা হচ্ছিলো। সব প্রক্রিয়া শেষে যখন লাশ জানযার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে, শেষবারের মত মৃত শামীমের লাশ দেখতে আসা লোকের মধ্যে একজন বলে উঠে, শামীম এখনও জীবিত আছে, তার চোখ নড়াচড়া করছে। কোন ঝুঁকি না নিয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. তারেক জানান, শামীমকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ার তার লাশ স্বজনদের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত