প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অ্যাপসে ক্লিক করলেই হাজির হবে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট : সরু গলির নির্জন পথ। একাকী হেঁটে যাচ্ছেন এক তরুণী। সামনে পথরুদ্ধ রাখার উপক্রম করছে কোনো এক বখাটে। বিপদ আসন্ন সেটাও অনুভব করছেন ওই তরুণী। কিন্তু সহায়তার হাত বাড়ানোর জন্য তার চারপাশে কেউ নেই। ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন বের করে কাছের মানুষ কিংবা থানাপুলিশে কল বা এসএমএস দেওয়ার সুযোগও নেই। এমন সময় ব্যাগের ভেতরে থাকা মোবাইলের পাওয়ার বাটনে পরপর চারবার ক্লিক করলেই সমাধান!

তাৎক্ষণিক ওই তরুণীর সংকটাপূর্ণ অবস্থার একটি এসএমএস একযোগে পৌঁছে যাবে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার ১০৯, স্থানীয় পুলিশ স্টেশন, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং তিনটি এফএনএফ নম্বরে। এর পর শুরু হবে পুলিশি অ্যাকশন।

সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় ‘জয় অ্যাপস’ নামক অভিনব এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’। এ মুহূর্তে চাঁদপুর ও পটুয়াখালী জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম চলছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপসের উদ্বোধন করা হবে। তবে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্পেই এ পর্যন্ত ১৫শ অভিযোগ এসেছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাওয়ার বাটনে ক্লিক করা ছাড়াও কোনো নারী অথবা শিশু সহিংসতার শিকার হলে মোবাইলের ডিসপ্লেতে থাকা অ্যাপসে ঢুকে ‘জরুরি অবস্থা’ অপশনে স্পর্শ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেলফি ও ব্যাক ক্যামেরা চালু হবে। উভয় ক্যামেরা নির্দিষ্ট সময় পরপর ছবি তোলার পাশাপাশি এবং ভয়েস রেকর্ড হয়ে থাকবে। এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে মোবাইল ফোন ও ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টারে ‘১০৯’ সার্ভারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনের গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে ‘জয় ১০৯’ লিখে অ্যাপস ডাউনলোড ও ইন্সটলের পর নিজের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের পর এটি চালু হবে। এর পর সহিংসতার শিকার নারী-শিশুকে এ অ্যাপসের ‘জরুরি অবস্থা’ লিখিত মেনুটি ক্লিক করতে হবে। তবে আরও সংকটাপূর্ণ বা অ্যাপসে ক্লিক করার সুযোগ না পেলে মোবাইল পাওয়ার বাটন পরপর চারবার ক্লিক করতে হবে। এর পর মোবাইলে ভাইব্রেট হবে তখন আবারও একই বাটনে ক্লিক করলেই কাজ হয়ে যাবে। তবে লোকেশনসহ তথ্য প্রদানের জন্য মোবাইল সেটে ইন্টারনেট চালু রাখতে হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পপ্রধান ড. আবুল হোসেন বলেন, অনেক সময় সহিংসতার শিকার নারী-শিশুদের মোবাইল ফোনটি ভ্যানেটি ব্যাগে থাকে। তখন ব্যাগের ভেতরে হাতের আঙুলে স্লিপিং মুডে থাকা মোবাইলের পাওয়ার বাটন ক্লিক করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার উপযোগী করে এ অ্যাপসটি তৈরি করা হয়েছে। আবার ঘটনার পরও অভিযোগ দেওয়া যাবে এ অ্যাপসের মাধ্যমে। গোপনীয়তা রক্ষা করে অ্যাপসের মাধ্যমে সংরক্ষিত তথ্য আদালতের নির্দেশনায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথায় অসংখ্য নারী ও শিশু ইভটিজিং বা নির্যাতিত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকিসহ নানা বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি কিংবা নিজ বাড়িতেও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তাক্ষৎণিকভাবে হাতের নাগালে কেউ না থাকায় ওই নারী বা শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। আবার ঘটনার পর নানা কারণে অভিযোগ করা হয় না। পরে অভিযোগের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। পথেঘাটে কিংবা ঘরের ভেতরে নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও শিশুকে উদ্ধার বা নির্যাতন পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সহায়ক হিসেবে বৈচিত্র্যময় এ অ্যাপসটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত