প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দু’দশক পূর্তি উৎসব

জীবন সাহা : সারাদিন যেখানে শুধুই রোগীদের ভীড়, সেখানে রোগীদের ভীড়ের পাশাপশি সাজসাজ রব একাধারে চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা অন্য দিকে চলছে দুইদশক পূর্তির উৎসব।

দু’দশকপূর্তি উৎসব উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলেই সেজেছে নতুন করে, চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে পুরুষদের পরনে লাল গেঞ্জি আর নীল ক্যাপ আর নারীদের পরণে লাল শাড়ী। ২০ মার্চ মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দু’দশক পূর্তির অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখা গেল। সকাল সাড়ে ৮টায় ইনস্টিটিউটে ঢুকতেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা চত্বর। পুরো চত্বর জুড়ে বিভিন্ন সচেতনামুলক নানা ব্যানার ফেষ্টুন ঝোলানো হয়েছে । রেজিষ্টেশন পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরুর পর পরই জাতীয় সংগীতের তালেতালে তোলা হয় জাতীয় পতাকা ও ইনস্টিটিউটের পতাকা। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে শুরু হয় শোভা যাত্রা। বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক,নার্স, শিক্ষার্থীসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগন।

শোভাযাত্রাটি ইনষ্টিটিউট এর চত্বর প্রদক্ষিন করে ফিরে আসে সবুজ চত্বরে। শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ১৯৯৯ সালের ২০ মার্চ তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধন করেন, এবছর ২০ মার্চ যাত্রা শুরুর দু’দশক পার করলো। সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হয় বৈজ্ঞানিক অধিবেশন।বিভিন্ন পেজেনটেশন এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্য তুলে ধরা হয় এ অধিবেশনে। আলোচনা হয় হাসপাতালের ব্যাপক উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যে আরো কি ধরনে পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এম কিউ কে তালুকদার বলেন, রোগীরা আমাদের কাছ থেকে যথাযথা চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা, আমাদের ডাক্তার নার্স রোগীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করছে কিনা হাসপাতালের সার্বিক সেবা মান কিভাবে আরো বাড়ানো যায়।দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে বর্তমানে কর্মরত অধিকাংশ চিকিৎসক মিলিত হওয়ায় অনুষ্ঠানস্থলে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। অনেক দিনপর পুরোনো সহকর্মীদের কাছে পেয়ে আপ্লুত হযে পরেন। এসয় অনেকেই তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সৃতিময় স্থান ঘুরে পুরোনো সৃতি আতড়ে বেড়ান।

মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডাঃ এম এ মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা চিকিৎসকদের আরো বেশি আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, বিএমএর সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সরোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকদের স্মৃতিচারনা, পুরস্কার বিতরনী ও সাংকৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

উল্লে­খ্য একজন সুস্থ এবং যথাযথ পুষ্টির অধিকারী মা-ই পারেন একটি সুস্থ সবল শিশু জন্ম দিতে, বাস্তবতার উপলদ্ধি থেকেই দেশের কয়েকজন স্বপ্নদ্রষ্টা শিশু ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞগন তাদের সমন্বিত মেধা, মনোনশীলতা ও কর্মপরিকল্পনা একত্রিত করে একই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে থেকে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপিত মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউ প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পার করছে। মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত চিকিৎসা সেবা প্রদান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত মানব সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক এফিলিয়েটিড সেন্টার হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং সাউথ সাউথ কোলাবোরেশন প্রোগ্রামের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় গৌরব অর্জন করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত