প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিয়ান কূটনৈতিকদের বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ

নূর মাজিদ: যুক্তরাজ্যে আশ্রিত সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই ক্রিস্পালের উপর ‘নার্ভ এজেন্ট’ হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই নিজ নিজ দেশে অবস্থিত রুশ কূটনৈতিকদের বহিষ্কার করলো ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার, ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মহাসম্মেলনে ১৪টি ইইউভুক্ত দেশ রাশিয়ান কূটনৈতিকদের বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রাসেলস বৈঠকের পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন যে সংস্থাটির ১৪টি সদস্য দেশ রুশ কূটনৈতিকদের বহিষ্কারে একমত হয়েছে। ব্রাসেলস সম্মেলনে ইইউ সদস্য দেশগুলি ঐ হামলায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সুনিশ্চিত বলেই এক টুইট বার্তায় জানান ইইউ সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক।

রুশ কূটনৈতিক বহিস্কারে ব্রিটেনের পদক্ষেপের পরেই এমন কঠোর অবস্থান নিলো ইইউ। ‘নার্ভ এজেন্ট’ হামলার ঘটনায় ব্রিটেন রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে তাদের ২৩ জন কূটনৈতিককে বহিষ্কার করে এবং তারই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়াও ২৩ জন ব্রিটিশ কুটনৈতিককে বহিষ্কার করে। এদিকে ইইউ এর দুই প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স এবং জার্মানি ব্রিটেনের অবস্থানকে দৃঢ় সমর্থন দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপের স্বপক্ষে তার দৃঢ় সমর্থন ইতোপূর্বেই জানিয়েছিলো।

ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ভূমিতে নার্ভ এজেন্ট হামলা ইউরোপের সার্বভৌমত্ত্বের প্রতি আঘাত।

এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রও তার দেশ মোট ৬০ জন রুশ কূটনৈতিককে বহিস্কারের কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত রুশ দুতাবাস বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, রাশিয়া তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলিকে গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার করে আমেরিকা ও তার মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। রাশিয়ার কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এই সমস্ত কর্মকান্ডের কারণেই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র বহিষ্কৃত রুশ কূটনৈতিকদের মধ্যে ১২ জন নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র ৪ জন করে মোট ৮ জন রুশ কূটনৈতিককে তাৎক্ষনিক বহিষ্কার করেছে। ইউক্রেন বহিষ্কার করেছে ১৩ জন কূটনৈতিককে। এছাড়াও বহিস্কারের চিন্তা করছে আয়ারল্যান্ড ও লিথুনিয়া।

ইত্যোপূর্বে, ব্রাসেলস বৈঠকের আগেই রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া এবং পোলান্ডে অবস্থিত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতদের গত সোমবার দেশগুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে ডেকে পাঠায় এবং দেশগুলিতে তাদের কূটনৈতিক মিশনের পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

সব মিলিয়ে ‘নার্ভ এজেন্ট’ হামলার ঘটনায় এবার কূটনৈতিকভাবে রাশিয়াকে ইউরোপ বিচ্ছিন্ন করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করলো ইইউ। সিএনএন/ বিবিসি/ দ্য গার্ডিয়ান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত