প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের হাওয়া: সিলেট-৬
আওয়ামী লীগে শীর্ষে নাহিদ বিএনপিতে প্রার্থী অর্ধডজন

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রবাসী অধ্যুষিত দুই উপজেলা বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। এই আসনে সর্বোচ্চ তিনবারের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকার মাঝি হচ্ছেন। তবে আরও কয়েকজন মনোনয়ন চাইতে পারেন। অন্যদিকে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে অর্ধডজন প্রার্থীর দ্বন্দ্ব-বিরোধে নাজুক বিএনপি।

আগামী নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন কানাডা শাখা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারওয়ার হোসেন। তিনি ছাড়াও এ দল থেকে নির্বাচন করতে চাইছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফছার খান সাদেক, দলের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন আহমদ হাসিব, দলের যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমদ এবং গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী জেলা দক্ষিণের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানকে ছাড় দিলেও আগামীতে আর ছাড় দিতে রাজি নয় বিএনপি। অন্তত অর্ধডজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ধানের শীষ প্রতীকের। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা শাখার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ, জেলা শাখার সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান। অতীতে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে দু’বার বিজয়ী ‘লেচু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত বিএনপির আলোচিত শিল্পপতি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনও রয়েছেন আলোচনায়।

এ আসনে জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমদও নির্বাচন করতে পারেন। শিল্পপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া মিলু ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দলের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর পরও নিজের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মতপার্থক্যে তাকে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করতে তারা সবাই মিলে কাজ করছেন। নেত্রী যাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন, তাকে সেখানেই দায়িত্ব দেবেন। তিনি বলেন, গত নয় বছরে যত উন্নয়ন হয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে এত উন্নয়ন আর হয়নি। এ দুই উপজেলার মানুষ আবারও শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান সমকালকে বলেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ নির্বাচন করলে তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন। তবে তিনি নির্বাচন না করলে দলের জেলা শাখার এই নেতা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

মনোনয়নপ্রত্যাশী সারওয়ার হোসেন ইতিমধ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিতে শুরু করেছেন। সমকালকে তিনি বলেন, অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও নেত্রীর নিজস্ব জরিপে যিনি এগিয়ে থাকবেন, তাকেই দল সুযোগ দেবে। মনোনয়ন না পেলেও আর্তপীড়িত অসহায় মানুষের পাশে থেকে আজীবন দলের জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দুই প্রবাসী নেতা আফছার খান সাদেক ও মামুন আহমদ হাসিবের পক্ষেও এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এলাকায় জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে তিনি দুই উপজেলার সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। সমকালকে তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সততা-ত্যাগ কাজে লাগিয়ে জনগণের ও এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে থেকে এ আসনের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।

জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান জানান, মনোনয়ন পেলে তিনি জয়ী হওয়ার আশা করছেন। এরই মধ্যে তিনি এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী মাওলানা রশীদ আহমদ বলেন, দুই উপজেলার উন্নয়নে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিগত দিনগুলোতে দল ও এলাকার জন্য যেভাবে কাজ করেছেন তাতে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে মনে করেন তিনি।

সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন সমকালকে বলেন, তিনি ফাইনাল ম্যাচের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। শেষবেলায় কীভাবে গোল দিতে হয় তা তিনি ভালো করেই জানেন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে দলের দুর্দিনেও তিনি সবসময় পাশে ছিলেন এবং এখনও আছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছেন। দল নির্বাচনে গেলে এসব বিবেচনা করে তাকেই মনোনয়ন দেবে বলে তার ধারণা।

সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া মিলু বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে তরুণদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তারুণ্যই সমাজকে পাল্টে দিতে পারে- তিনি চাইছেন এই বার্তা দিতে। একই সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠদেরও সহযোগিতা চাইছেন। তাদের সম্মিলিত সমর্থনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ সমকালকে বলেন, তারা নির্বাচনমুখী দল। দল সিদ্ধান্ত দিলে নির্বাচন করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করলেও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির সিলেট জেলা দক্ষিণ শাখার আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। গত নির্বাচনে (২০০৮) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এবার জোটের মনোনয়ন পেলে নিশ্চয়ই জয়ী হবেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি ও বিরোধী দলের হুইপ, বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন এবার চাইছেন নিজের এলাকা অর্থাৎ সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করতে। তবে তিনি এও বলেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে যে আসন থেকে নির্বাচন করার নির্দেশ দেবেন তিনি সেখান থেকেই ভোট করবেন। সিলেট-৫ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের চালচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখান থেকেই ভোট করুন না কেন, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত