প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রসঙ্গ ৪৩-এর মন্বন্তর
চার্চিল একজন যুদ্ধাপরাধী! : বিবিসির ইতিহাসবিদ

আসিফুজ্জামান পৃথিল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের মহানায়ক স্যার উইন্সটন চার্চিলকে যুদ্ধাপরাধী বলে অভিহিত করলেন বিবিসির ইতিহাসবিদ ডেভিড ওলুসগা! অক্সফোর্ডশায়ার লিটারারি ফেস্টিভালে বক্তৃতা প্রদানকালে এই বিষ্ফোরক মন্তব্য করেন ব্রিটিশ সরকারি গণমাধ্যম বিবিসি’র এই ইতহাসবিদ।

তিনি বলেছেন, প্রায় সকল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বই ভালো এবং মন্দ কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি মনে করেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদরা একটি ইতিহাস যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন যেখানে ব্রিটিশদের অতীত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই চার্চিলের প্রশংসা করি যিনি দক্ষতার সাথে ৪০ দশকের শুরুর দিকে নাৎসিদের মোকাবেলা করেছিলেন। কিন্তু এর মানে এই নয় ৪৩-৪৪ সালে বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের (৪৩ এর মন্বন্তর) জন্য তাকে আমি দায়ী করবো না’। তিনি আরো বলেন, ‘এর মানে এও নয় আফ্রিকায় সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের জন্য তাকে আমি দোষ দেবো না’।

ওনাসগা দাবি করেন ব্রিটিশ জনগণকে তাদের ইতিহাসের শুধু একটি দিকই দেখানো হয়। এ ব্যাপারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আছেন যারা শুধু ভালো গল্পগুলিই শুনতে চান। সেই ঘটনাগুলোই তারা শুনতে চান, যা তারা শুনতে অভ্যস্থ। আবার কিছু মানুষ একটি গল্প ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে চান। এখানেই সংঘর্ষ বাঁধে। এটাকেই আমার ইতিহাসের যুদ্ধ বলে মনে হয়’।

উল্লেখ্য, উইন্সটন চার্চিলের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩-৪৪ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। এতে সর্বাধিক ক্ষতির শিকার হয় তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বা বর্তমান বাংলাদেশ। সেসময় সরকারী হিসেবেই বাংলায় আনুমানিক ২১ লাখ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যান। পরবর্তীতে, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন প্রমাণ করেছেন ৪৩ এর মহা মন্বন্তরে বাংলায় খাদ্যের অভাব ছিল না ব্রিটিশ শাসকরা যুদ্ধের রসদ নিয়ে অতি সতর্কতার কারণে সমস্ত খাদ্যশষ্য সরিয়ে ফেলেছিল। চার্চিল সরকারের এই হঠকারিতাতেই বাংলায় এই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। -সানডে এক্সপ্রেস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত