প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১১১ বছরের নড়বড়ে সেতুতে চলে আমদানি-রফতানির ট্রাক

}

ডেস্ক রিপোর্ট : যশোর-বেনাপোল সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ১৯০৭ সালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নির্মাণ করে ১১৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু। এ সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী অন্তত পাঁচশ ট্রাক। এছাড়া যশোর-বেনাপোলগামী যাত্রীবাহী বাস চলে নিয়মিত। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির বয়স এখন ১১১ বছর। কাঠামোর অবস্থা একেবারে নড়বড়ে। সেতুর মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে, দুপাশের রেলিংও কিছু জায়গায় ভেঙে গেছে। ভারী যানবাহন চললে দোলে।

একই অবস্থা যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ভৈরব নদের ওপর নির্মিত ৩০ দশমিক ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটিরও। এটির বেশির ভাগ অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। রেলিং ভেঙে নদের ওপর পড়েছে। সেতুটি যশোর থেকে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় যাতায়াতের একমাত্র পথ। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কপোতাক্ষ ও ভৈরব নদের ওপর ওই দুটি সেতুই শুধু নয়, যশোর সওজের অধীন ২৫টি ছোট-বড় সেতুর মধ্যে পাঁচটি বাদে সবক’টিই ২০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো। অধিকাংশই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরের কারণে যশোর এলাকায় ভারী যান চলাচল বেশি করে। এ কারণে পুরনো সেতুগুলোয় ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

যশোর সওজ সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুটি পাঁচ বছর আগে বিশেষজ্ঞরা জরিপ করে সেতুটি পুনর্নির্মাণের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সুপারিশ আর বাস্তবায়ন হয়নি। ঝিকরগাছার বাসিন্দা মাসুদ আলম জানান, শত বছর আগে কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতুটি করা হয়েছিল। এতদিন তো একটি সেতু ফিট থাকতে পারে না। প্রতিদিন শত শত বাস-ট্রাক সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১৫ সালে সেতুর ওপর দিয়ে তত্কালীন সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী সাতক্ষীরায় যাওয়ার আগে উপজেলা প্রশাসন সওজের সহযোগিতায় তড়িঘড়ি করে উপরিভাগ সংস্কার করেন। কিন্তু মূল কাঠামো নড়বড়েই রয়ে গেছে। বড় গাড়ি চললে সেতুটি থরথর করে কাঁপে।

যশোর সদরের চূড়ামনকাটি কলোনি পাড়ার বাসিন্দা আনসার আলী জানান, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ভৈরব নদের ওপর নির্মিত সেতুটি দেশ স্বাধীনের পর পরই নির্মাণ করা হয়। এরপর আর একবারও সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভারী যানবাহন চলাচল করলে কাঁপে। সেতুর অনেক স্থানে ফাটল ধরেছে। দুপাশের রেলিং ভেঙে গেছে। সাতমাইল বাজারের সেলফোন সেট ব্যবসায়ী মানিক শিকদার বলেন, সেতুটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, আমরা ঝিকরগাছা ও যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ওপর নির্মিত সেতু দুটি ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ অগ্রগতি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া বাকি সব সেতু চলাচল উপযোগী আছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সওজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাত বছরের ব্যবধানে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি সেতু নতুন করে নির্মাণ করেছি। সূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত